দিরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানবিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন
কৃষি
প্রকাশঃ ২১ মার্চ, ২০২৬ ৫:২৮ অপরাহ্ন
হাওরের কৃষকদের মনে এখনও দগদগে হয়ে আছে ২০১৭ সালের অকাল বন্যার স্মৃতি। সেই আতঙ্ক আবারও ফিরে আসছে চলতি মৌসুমে। মার্চের মাঝামাঝিতে টানা বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। ঈদুল ফিতরের আনন্দ এলেও তাদের মুখে নেই স্বস্তি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৩৭০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা নদ-নদীর পানি আরও বাড়াতে পারে।
তাহিরপুরের শনির ও টাঙ্গুয়ার হাওর, সদর উপজেলার জোয়ালভাঙা ও কানলার হাওর, বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। এখনও ধানে থোড় আসেনি। ফলে কয়েক দিন পানি জমে থাকলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ধান এখনো কাঁচা। দুই-তিন দিন পানির নিচে থাকলে সব পচে যাবে। আমরা খুব ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।
সদর উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওরের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ আসছে, কিন্তু মনে কোনো আনন্দ নাই। ফসল ঘরে তুলতে পারব কি না এই চিন্তাই এখন বড়।
বাংলাদেশের মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে হাওর অঞ্চল থেকে। এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এসব ফসল রক্ষায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০২ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও সব বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। অনেক স্থানে দুর্বল বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক শফিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বাঁধের কাজ ঠিকমতো হয়নি। কিছু জায়গায় মাটি কম দেওয়া হয়েছে। এখন বৃষ্টি বাড়লে এই বাঁধ টিকবে না।
কৃষকেরা বলছেন, পিআইসি গঠনে দেরি, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সময়মতো বাঁধ নির্মাণ হয়নি। অনেক কৃষক এখনও পুরো টাকা পাননি।
জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরের কৃষক আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা তো গরিব মানুষ। টাকা না পেলে নিজের পকেট থেকে বাঁধ দেওয়ার ক্ষমতা নাই। সরকার সময়মতো টাকা দিলে হয়তো এই সমস্যা হতো না।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, হাওরের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে এ ধরনের ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা সাধারণত দেখা যায় না, যা আমাদের জন্য একটি অশনিসংকেত। এখনও ধান পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি, ফলে কয়েক দিন পানি জমে থাকলেই ফসল পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অসম্পূর্ণ ও দুর্বল বাঁধ যা হাওরের ফসল রক্ষায় বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়া, পিআইসি গঠনে দেরি এবং অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এসব বিষয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এখনই দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন, অসমাপ্ত বাঁধের কাজ শেষ করা এবং জলকপাট সঠিকভাবে পরিচালনা করা না গেলে ২০১৭ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, আমরা ক্ষতিপূর্ণ কয়েকটি বাঁধের তথ্য পেয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হাওর, ফসলরক্ষা, বাঁধ, ঈদ