১০ জুন ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

খরায় ফেটে চৌচির হাওরের জমি, বৃষ্টির আশায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৬ মার্চ, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ন


প্রায় পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক ফসলি জমি শুকিয়ে ফেটে গেছে। বোরো মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, পানির অভাবে অনেক ধানক্ষেতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে। কোথাও খরার কারণে ধানগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, সুনামগঞ্জের বেশির ভাগ হাওরে সেচের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। প্রাকৃতিক জলাধার ও বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেই এখানে বোরো চাষ করতে হয়। কিন্তু কিছু এলাকায় অসময়ে জলমহাল শুকিয়ে ফেলার কারণে পানির সংকট আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার খরচার হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাওরের অনেক জমিতে পানির অভাব স্পষ্ট। উঁচু জমিগুলোতে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সেচের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন।

বড়ঘাট এলাকার কৃষক নজির আলী জানান, তিনি ছয় খানি জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে। ধানগাছও ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। গাছ বাঁচিয়ে রাখতে তিনি জমিতে সার ছিটানোর চেষ্টা করছেন।

নজির আলী বলেন, ধান লাগানোর পর থেকেই পানির অভাব। আশা করেছিলাম বৃষ্টি হবে। কিন্তু এতদিনেও বৃষ্টি হয়নি। গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছু বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। তবে দীর্ঘ সময় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, এ বছর বোরো মৌসুমে বৃষ্টিপাত হয়নি বললেই চলে। এতে বিভিন্ন হাওরে সেচের সংকট তৈরি হয়েছে। খরার কারণে ধানগাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, হাওর, বোরো ধান, কৃষক, বৃষ্টি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ