১৩ মার্চ ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: নতুন প্রজন্মের মুখে নেই শেকড়ের ভাষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৩:২০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নিয়মিত চর্চার অভাবে এসব ভাষা এখন কেবল পরিবারকেন্দ্রিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নতুন প্রজন্মের অনেকেই নিজেদের মাতৃভাষায় সাবলীল নয় ফলে ভাষার শব্দভান্ডার, উচ্চারণ ও ব্যবহার দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই ও মনিপুরি সম্প্রদায়ের রয়েছে স্বতন্ত্র ভাষা ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। কিন্তু বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার প্রভাব এবং মাতৃভাষা শিক্ষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় এসব ভাষা বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে প্রবীণরা এখনো নিজেদের ভাষায় কথা বললেও শিশু-কিশোরদের বড় একটি অংশ মাতৃভাষা বলতে পারে না। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মাতৃভাষাভিত্তিক কোনো পাঠ্যপুস্তক নেই, নেই ভাষা শেখার চর্চা কেন্দ্র। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ও সামাজিক পরিসরে বাংলা ভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অনেক সময় প্রকাশ্যে মাতৃভাষায় কথা বললে উপহাসের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে শিশুদের মধ্যে নিজেদের ভাষা ব্যবহারে অনীহা তৈরি হচ্ছে।

আদিবাসী শিক্ষকরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা চালু করা গেলে শিশুরা সহজে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে এবং একই সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণও সম্ভব হবে। তারা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গবেষণা, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ সময়ের দাবি।

তাহিরপুর উপজেলার আদিবাসী নেত্রী ডনবকমন নংউড়া বলেন, পাহাড় ও সমতলের প্রতিটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা আছে। কিন্তু শেখার কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় ভাষা শুধু পরিবারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। বয়োজ্যেষ্ঠরা মারা গেলে ভাষার বহু শব্দ ও রীতি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এন্ড্রো সলোমার বলেন, চর্চার অভাবে আমাদের অনেক মাতৃভাষা বিলুপ্তির পথে। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় অন্তত একটি করে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিজেদের শেকড় থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সুনামগঞ্জ, মাতৃভাষা, দিবস

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ