সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৯:২০ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের ১৯টি আসনের প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় তাদের ভোটারও নিরব। আওয়ামী লীগের এই ভোট ব্যাংক টানতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোট আসন ও প্রার্থী ভেদে ভাগাভাগি হতে পারে। তবে সিলেটের নারীদের বড় একটি অংশ এবার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পক্ষে চলে যাবে। অবশ্য নারী ভোটারদের নিয়ে জুলাই অভ্যুত্তানের পর থেকে কাজ করছিল জামায়াতের নারী সংগঠন।
সিলেটের এবার ১৯ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীদের মধ্যে। এখন পর্যন্ত কয়েকটি আসনে বিএনপি ও কয়েকটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও কিছু আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। এই আসনগুলোতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটগুলো বড় সহায়ক হয়ে দাঁড়াবে। তবে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে যাবে কী না সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
তবে, সিলেট অঞ্চল আওয়ামী লীগের ভোটগুলো বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভাগাভাগি হবে বলে মনে করছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। এমনকি মাঠে থাকা বড় দুই রাজনৈতিক দলও এমনটা ভাবছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনী আসনগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্ব তৈরি করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরে ঘরে উঠান বৈঠক ও সমাবেশ করছেন জামায়াত ইসলামীর সমর্থকরা। তাদের মতে, এবার ভোটে জামায়াতের বিপ্লব ঘটাবে নারী ভোটাররা।
সিলেট-১ আসনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াত ইসলামীর একজন মহিলা সমর্থক বলেন, ‘এবার সবাই পরিবর্তন চায়, আমরা বাড়ি বাড়ি যাই নারী ভোটারদের সাথে কথা বলি। তাদের মনের ইচ্ছা বুঝি। সিলেট ধর্মীয় অঞ্চল নারীরা চান ইসলামী শাসন। তাই বলা যায় ভোট যেমন হোক জামায়াতের ইসলামীর জয়ে নিরব বিপ্লব হিসেবে থাকবে নারী ভোটাররা।’
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের ভোটার তুলনা আক্তার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেউ আমার বাসায় না আসলেও জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষের মহিলারা আমাদের বাসায় এসেছিলেন। তারা আমাদের বুঝিয়ে যাচ্ছেন কেন এবার জামায়াতকে জয়ী করা প্রয়োজন। তারা আমাদের নানা রকমের আশ্বাস দিচ্ছেন পরিবর্তনের বাংলাদেশে নারীরা অনেক সম্মান পাবেন এসব কথাবার্তা এসে তারা বলছেন।’
সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদের সদস্য তৃণা দে বলেন, ‘এবার ভোট ভিন্ন রকমের চিন্তাধারায় হবে, বিশেষ করে একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা নারী ভোটারদের ধর্মীয় বিশ্বাসটাকে কাজে লাগিয়ে আবেগ দিয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকলেও সমর্থকরা রয়েছে। তারা এবার ভোট দিবে কি না এটা আমি জানি না। তবে এই ভোটব্যাংকের জন্য বিএনপি এবং জামায়াত ভাগাভাগি করে নিবে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের আকর্ষণ বাড়াতে নানা রকমের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা। তাই আমরা ধারণা করছি এবারের আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নির্দিষ্ট কোন দলের নয়। যারা আলোচনায় আছে তারাই ভাগাভাগি করে পাবেন।
জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘মহিলা ভোটারদের ব্যাপারটা বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমাদের প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। তবে আমাদের নারী প্রতিনিধিরাও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আমাদের প্রতিপক্ষরা তাদের বিভিন্ন রকমের হেনস্তা করে যাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি পুরুষ ভোটারের চাইতে নারী ভোটার আমরা বেশিই পাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য-হাসিনার রেজিমের সাথে হামলা খুন ও তাদের দোসর হিসেবে ছিলেন তাদের বিচার হতে হবে। আমরা এটাও বলেছি- যারা নিরীহ, রাষ্ট্রের অন্য নাগরিকদের যেসব সুবিধা-অধিকার রয়েছে তাদের বেলাও একই চিন্তাধারা রাখতে।’
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা কোন দলের ভোট নিয়ে আসার জন্য কাজ করছি না। আমরা নারী পুরুষও আলাদা করে দেখছি না। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল সারাদেশে ধানের জোয়ার চলতেছে।
তিনি বলেন, আমরা কোন ভেদাভেদ করছি না। আমাদের বিশ্বাস সবার আস্থাকে কাজে লাগিয়েই আমরা এবার নির্বাচনে বিজয় ঘরে তুলব।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নারী ভোটার, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত