বিসিবির পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী কাইয়ুম চৌধুরী
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ ৬:০৮ অপরাহ্ন
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখল সিলেট টাইটান্স। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস।
ম্যাচে রংপুরের করা মাত্র ১১১ রান একদম শেষ বলে পূরণ করলো সিলেট। ৩ উইকেটের জয়ে ফাইনালের আশা টিকে রইলো টাইটান্সের। ফলে ফাইনালের আগে বিদায় নিতে হলো রংপুরকে।
৪ বলে ১ ছক্কায় অপরাজিত ১০ রান করেন নায়ক ওকস। বোলিংয়ের সময়ও ঝলক দেখান তিনি। ৪ ওভারে ১৫ রান দিলেও নেন ২ উইকেট।
ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ৯ রান। ফাহিম আশরাফের প্রথম চার বলে কেবল ২ রান আসে এবং বিদায় নেন মঈন আলি। ম্যাচ তখন রংপুরের জিতার সম্ভাবনায় এগিয়ে। পঞ্চম বলে খালেদ আহমেদ এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন ওকসকে। শেষ বলে ওয়াইড লেন্থের শর্ট বল পেয়ে দারুণ শটে মাঠের বাইরে পাঠান ওকস।
ইনিংসের চতুর্থ বলেই উইকেট হারায় সিলেট। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ আউট হন তৌফিক খান তুষার। তৃতীয় স্থানে নামা আরিফুল ইসলামকে নিয়ে এগুতে থাকেন পারভেজ হোসেন ইমন। দুজনের জুটিকে বাঁধাপ্রাপ্ত করেন আলিস আল ইসলাম। পারভেজকে স্টাম্পিংয়ে আউট করার পর আফিফ হোসেনকে বোল্ড করেন তিনি। তার আগে আরিফুল নাহিদ রানার বলে ক্যাচ আউট হন। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে খানিকটা চাপে পড়ে যায় সিলেট।
এমন পরিস্থিতিতে মেহেদী হাসান মিরাজ আর স্যাম বিলিংস ৫৪ বলে ৫০ রান করেন । ম্যাচ তখন প্রায় সিলেটের পক্ষে। খুশদিল শাহর বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে মিরাজ যখন ফিরে যান, তখনও সিলেটের জয়ের জন্য ১৮ বলে দরকার ছিল ১৮ রান । হঠাৎ সেই সহজ সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়ে।
৪০ বলে ২৯ রান করে বিলিংস আউট হওয়ার পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। মোস্তাফিজুর রহমানের করা ১৯তম ওভার থেকে আসে কেবল ৬ রান এবং বিলিংস উইকেট হন। তবে শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর ফিনিশিংয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে সিলেট। অন্যদিকে, বিবর্ণ আসর শেষ করে হতাশায় ডোবে রংপুর।
এর আগে ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে টস জিতে বোলিং বেছে বাজিমাত করে সিলেট। শুরু থেকেই বাউন্স ও মুভমেন্ট পাচ্ছিলেন পেসাররা। তাতে ওকস ও খালেদ হয়ে ওঠেন দুর্ধর্ষ। ২৯ রানে ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে শুরুতেই রংপুরকে চেপে ধরে সিলেট।
পঞ্চম উইকেটে খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহর ৩৪ রানের জুটি প্রতিরোধ গড়ে। মাহমুদউল্লাহ ক্রিজ আগলে ছিলেন এবং খুশদিল আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন। এই গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। এরপর নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে এগুতে থাকেন মাহমুদউল্লাহ। থিতু হওয়া অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে তুলে নেন নাসুম।
শুরুতে উইকেট নেওয়া খালেদ শেষ দিকেও হানা দেন। সোহান ও ফাহিম আশরাফকে আউট করে রংপুরের রানের গতি কমিয়ে দেন তিনি। ফলে তিন অঙ্ক পেরোলেও বেশি দূর যেতে পারেনি লিটন দাসের দল। সামান্য রান নিয়ে তুমুল লড়াই করলেও শেষ হাসি আর হাসা হলো না রাইডার্সদের।
সিলেট টাইটান্স, রংপুর রাইডার্স, বিপিএল, ক্রিকেট, সিলেট