আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, উবায়দুল্লাহ ফারুককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
নির্বাচন
প্রকাশঃ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে আয় ও সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনিসুল হক। অন্যদিকে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন একই দলের আরেক প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল। তবে সম্পদের দিক থেকে অন্যান্য প্রার্থীর থেকে কিছুটা এগিয়ে আছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও কৃষি পেশার ব্যক্তিরা এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আয়, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক অবস্থার ক্ষেত্রে রয়েছে বৈচিত্রতা।
এদিকে আসনটিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ছয়জন প্রার্থী। তবে যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করেন সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যবসায়ী আনিসুল হক বিএসসি ডিগ্রিধারী। তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৭ হাজার ৩২৯ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ১২ লাখ ৪১ হাজার ৬১৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৪ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৫১১ টাকা, যার বর্তমান মূল্য ৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৪ টাকা। একইভাবে স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৪ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা, যার বর্তমান মূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তাঁর নামে পাঁচটি মামলা থাকলেও সবগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
অপর বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল পেশায় ব্যবসায়ী ও কৃষক। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা দাখিল পাস। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদের মূল্য ২৭ লাখ টাকা। তাঁর নামে সাতটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে চারটি থেকে খালাস এবং তিনটি মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচন করছেন তোফায়েল আহমদ। কামিল (এমএ) ডিগ্রিধারী ওই প্রার্থী পেশায় একজন শিক্ষক। তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৮১ হাজার ৯১৫ টাকা। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৬২১ টাকা। এ ছাড়া যৌথ মালিকানাধীন ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমিসহ তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৭৩১ টাকা। তাঁর নামেও পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি থেকে অব্যাহতি, দুটি মামলায় খালাস এবং একটি নথিজাত বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী এমফিল (পিএসএম) ডিগ্রিধারী। প্রতিদ্বন্দিদের মধ্যে তিনিই শিক্ষায় সবচেয়ে উঁচু স্থানে রয়েছেন। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। কৃষি, ব্যবসা ও স্থাবর সম্পদ থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৮ লাখ ১৫ হাজার ৪০২ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তাঁর নামে চারটি মামলা রয়েছে, তবে সবগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে বলে নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেন ওই প্রার্থী।
সুনামগঞ্জ-১ আসন, নির্বাচন, রাজনীতি, হলফনামা বিশ্লেষণ