২৫ মে ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ

সিলেটে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি: স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৫:২৩ অপরাহ্ন


সিলেট নগরীতে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি সমন্বিত প্রস্তুতি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। নগরীর ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে বড় আকারের স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে এবং পুরাতন স্বেচ্ছাসেবক টিম পুনর্গঠন করা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ চিহ্নিত করে সেগুলো ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত “সিলেটে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও আমাদের প্রস্তুতি” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমদ। তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ১৮৬৯ সালের কাছাড় ভূমিকম্প এবং ১৮৯৭ সালের গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্প সিলেট অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সৃষ্টি করেছিল। এক নয় মাত্রার ভূমিকম্প হলে সিলেটের অর্ধেকের বেশি ভবন ধ্বংস হতে পারে, যা জনহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, নগরের পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ড. মুশতাক বলেন, সিলেটের অধিকাংশ ভবন নিম্ন থেকে মধ্যম উচ্চতার এবং অনেক ভবন বিল্ডিং কোড প্রণয়নের আগে নির্মিত। কাঠামোগত অনিয়ম এবং অপর্যাপ্ত ভূমিকম্প নকশা ভবনগুলোর দুর্বলতার মূল কারণ। বাংলাদেশের অতীত ভবন ধসের ঘটনাগুলোও এই অপরিকল্পিত নির্মাণের ঝুঁকি তুলে ধরে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর। অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন বাপা সিলেটের সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরী, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজা। উপস্থিত ছিলেন শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্বাগত বক্তব্য দেন বাপা সিলেটের সহ-সভাপতি আইনজীবী এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, কৃষি প্রযুক্তি অনুষদের ডিন মুক্তারুন ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সভাপতি ও বাপা সহ-সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ভাস্কর রঞ্জন দাস, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আলম খান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু জাফর, স্থাপত্য বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত দাশ, ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারি পরিচালক মোঃ কুতুব উদ্দিন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বনানী দাস, তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আকিকুর রেজা, সিলেট ভয়েসের প্রকাশক সেলিনা চৌধুরী, সুনামগঞ্জ সমিতি সিলেটের সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বাবর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ ও পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটু।

সেমিনারে আলোচনা হয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট কমাতে ওয়ার্ডভিত্তিক ট্রাফিক পরিকল্পনা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জরুরি অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক টিমের কার্যক্রমের গুরুত্ব।

ড. মুশতাক আহমদ জানান, ভবন নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনায় আধুনিক ভূমিকম্প নকশা বাধ্যতামূলক করা এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিলেট শহরকে নিরাপদ করা সম্ভব।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, ভূমিকম্প, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ