অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই প্রাণ যায় বাবা-মেয়েসহ ৫ জনের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৬:১৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফুশিয়ার মিয়া নামের এক সিএনজি চালকের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লক্ষাধিক টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোররাতে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া পয়েন্ট সংলগ্ন ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফুশিয়ার মিয়া জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তার স্ত্রী ও সন্তান বাড়ির বাইরে ছিলেন। প্রতিদিনের মতো তিনি একাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাতে সিএনজি নিয়ে বের হয়ে বাজারে যাওয়ার পর খবর পান, তার ঘরে আগুন লেগেছে। দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘর থেকে কোনো আসবাবপত্র বা কাগজপত্র বের করা সম্ভব হয়নি। তার ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোররাতে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তখন আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কয়েকজন যুবক সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পাশের বাড়ির ছাদে উঠে পানির ট্যাংকির সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর আগেই স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ফুশিয়ার মিয়ার পাশের দুটি পাকা বাড়িও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সুনু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে কল দেওয়ার প্রায় আধাঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে আসে। অথচ শান্তিগঞ্জ থেকে পাগলা আসতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় লাগে। তাছাড়া ঘটনাস্থলে এসে তারা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারেননি। তাদের যন্ত্রপাতি বিকল ছিল বলে জানানো হয়। যদি তারা দ্রুত ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন, তাহলে ঘরটি রক্ষা করা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মো. ফরিদ মিয়া বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। কোনো ধরনের দেরি করা হয়নি। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয়রা আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। যে পুকুর থেকে পানি নেওয়া হচ্ছিল সেখানে সুবিধাজনক স্থান না থাকায় প্রস্তুতি নিতে কিছুটা সময় লেগেছে। এই সময়টাকেই স্থানীয়রা দেরি হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়ে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, অগ্নিকাণ্ড, ভস্মীভূত