অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই প্রাণ যায় বাবা-মেয়েসহ ৫ জনের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১:১৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ২ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতির মধ্যদিয়ে আন্দোলন শুরু করেন স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ এবং সুনামগঞ্জ জেলা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টবৃন্দের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এতে সভাপতিত্ব করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন জেলা শাখার সভাপতি রোকন উদ্দিন মোল্লা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ এ কে এম জাকারিয়া’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, কাজী সাফী উদ্দীন, আফজালুর রহমান, জুবায়ের হোসেন, খালিদ হোসেন, জুলকার নাইম, ফিরুজ মিয়া, শামীম মন্ডল প্রমুখ।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত (অর্ধদিবস) এবং ৪ ডিসেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা ১০ম গ্রেডের দাবি করে আসছে। কিন্তু কোন সরকারই তাদের দাবি বাস্তবায়ন করছে না। তাই বাধ্য হয়ে কর্মবিরতিতে গিয়েছেন তাঁরা। দাবি আদায় না হলে ৩ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার কর্মসূচি ও কমপ্লিট শাটডাউনের করবে বলে জানান তারা।
তাঁরা আরও বলেন, সরকারি অন্যান্য বিভাগের ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা দশম গ্রেডের সুবিধা ভোগ করলেও বঞ্চিত রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে দীর্ঘদিন দেন দরবার করা হলেও ফাইল ফেলে রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, ওষুধ ব্যবস্থাপনা, ল্যাব কার্যক্রম, রেডিওলজি, থেরাপি, নমুনা সংগ্রহ, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। করোনা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া- যে কোনো মহামারিতেই এই পেশার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
টেকনোলজিস্টরা বলেন, বছরের পর বছর অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার এই পেশা। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা বহু আগেই ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। ২০১৮ সালে ডিপ্লোমাধারীদের দ্বিতীয় শ্রেণি ও দশম গ্রেড দেওয়া হলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ক্ষেত্রে সে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা আরও জানান, ওষুধ প্রস্তুত, সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বিতরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফার্মাসিস্টরা কাজ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার পরও সেক্টরটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এদিকে, কর্মবিরতির কারণে রোগীরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন সেদিক লক্ষ্য রেখে জরুরি সেবা চালু থাকবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দেলোয়ার হোসেন, ফিরোজ মিয়া, প্রান্ত, মামুন হায়দার, মাকসুদা, আনিকা প্রমুখ।
সুনামগঞ্জ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, কর্মবিরতি