২৪ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় বাম বিকল্প গড়ে তুলুন: রাজেকুজ্জামান রতন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:৪২ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেছেন, ‘এদেশের জনগণ দেখছে স্বাধীনতার পর সময় যত পেরোচ্ছে বৈষম্যও ততই বেড়ে চলেছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জনগণ বারবার গণবিরোধী স্বৈরাচারী সরকার হটিয়েছে, অভ্যুত্থান করেছে। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় বাম বিকল্প গড়ে তুলুন।’

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বাসদের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশের শুরুতে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন হয় এবং সমাবেশ শেষে লাল পতাকা মিছিল বের হয়।

জেলা বাসদের আহ্বায়ক আবু জাফরের সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্যসচিব প্রণব জ্যোতি পালের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন। 

জেলা নেতুবৃন্দের মধ্যে দেন জেলা বাসদ সদস্য জুবায়ের আহমদ চৌধুরী সুমন, উজ্জ্বল রায়, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি নাজিকুল ইসলাম রানা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আহ্বায়ক মাছুমা খানম, নির্মাণ শ্রমিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক মামুন বেপারি, রিকশা—ব্যাটারি রিকশা—ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার মনজুর আহমদ প্রমুখ।

সমাবেশে প্রধান বক্তা কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাসদ শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অবিচলভাবে কাজ করছে। এদেশের জনগণ দেখছে স্বাধীনতার পর সময় যত পেরোচ্ছে বৈষম্যও ততই বেড়ে চলেছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জনগণ বারে বারে গণবিরোধী স্বৈরাচারি সরকার হটিয়েছে, অভ্যুত্থান করেছে।’

তিনি বলেন, ‘২৪ এর গণ—অভ্যুত্থানে ছাত্র, শ্রমিক, জনতা রক্ত দিয়ে যে অভ্যুত্থান করে স্বৈরাচারি সরকারকে হটালো, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তারাও গণমানুষের স্বার্থের বদলে সংস্কার, আদেশ, গণভোট ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময়ক্ষেপণ করছে। শ্রমিকের চাকরি, মজুরি, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, বেকারত্ব দূর, প্রবাসীদের যন্ত্রণা লাঘব, ছাত্রদের শিক্ষার খরচ কমানো, ওষুধের দাম ও চিকিৎসা ব্যয় কমানো, নারী লাঞ্ছণা, অপমান ও নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। অতীতের স্বৈরাচারি শাসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লুটপাট, দুর্নীতি, দুঃশাসন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিন্তু জনগণের আকাক্সক্ষা ছিল বৈষম্য থেকে মুক্তি, বিশেষ করে দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির হাত থেকে মুক্তি; আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জনগণের জীবন জীবিকার নিশ্চয়তা,হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান। কিন্তু পুঁজিবাদী পথে বুর্জোয়া শাসন শোষণে, সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহারের মাধ্যমে গত ৫৪ বছর ধরে শাসকগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালনা করে চলেছে।’

সমাবেশে জেলা নেতৃবৃন্দ সিলেটসহ সর্বত্র গ্যাস সংযোগ চালু, নগরের জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ, সিলেট ঢাকা মহাসড়কসহ সব সড়ক মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার সম্পন্ন করা, ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল চালু, নগরে ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের জীবন—জীবিকা রক্ষায় আটক ব্যাটারি চালিত ছেড়ে দেওয়া, চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৬শ টাকা ঘোষণা করা, মব সন্ত্রাস বন্ধের আহ্বান জানান।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, বাসস

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ