১০ জুন ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সাংবাদিকদের অভিমত

অপসাংবাদিকতা ও চাপের সংস্কৃতি মুক্ত সাংবাদিকতার বড় বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৩ মে, ২০২৫ ৭:০৮ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ

‘অপসাংবাদিকতা ও চাপের সংস্কৃতি’ মুক্ত সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় বাধা। তার সঙ্গে রয়েছে ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ। তবে যারা সাংবাদিকতার নীতি ও নৈতিকতা মেনে কাজ করেছেন, তারা সব সময়ই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন।‘


বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সিলেটের ৬টি জন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দদের সাথে সিলেট ভয়েস কথা বলে। এসময় তারা গণমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেন।


সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির তাঁর অভিমতে বলেন, ‘সিলেটে আমরা মুক্তভাবে কাজ করছি এই বিশ্বাস আমাদের আছে। তবে কিছু অপসাংবাদিকতার কারণে সামগ্রিকভাবে আমাদের পেশাটিই কলুষিত হচ্ছে।‘


যারা অপসাংবাদিকতা করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন সাংবাদিকতাকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বলে আখ্যায়িত করেন।


তিনি বলেন, ‘এই ঝুঁকি জেনেও যারা সাহস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তারা সত্যিই সাহসী মানুষ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, আমরা আসলে কতটা মুক্ত? সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমাদের কাজ করতে হয় প্রতিনিয়ত।‘


ইলেকট্রনিক মিডিয়ার চিত্র তুলে ধরেন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) সিলেটের সভাপতি আশরাফুল কবীর। 

তিনি বলেন, ‘এখানে সাংবাদিকের নিজস্ব স্বাধীনতা অনেক কম। তবে স্থানীয় পত্রিকায় যারা কাজ করেন, তাদের সুযোগ যেমন বেশি, ঝুঁকিও ততটাই বেশি।‘


সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ গোলজার আহমদ বলেন, ‘আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই। এবারের দিবসে গণমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর প্রভাব নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটা সময়োপযোগী। আমরা প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করছি, যাতে নতুন বাংলাদেশের নির্মাণে আমরা সত্যিকারের জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারি।‘


সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি বলেন, ‘সারাদেশের তুলনায় সিলেটে সাংবাদিকরা কিছুটা হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। তবে এটি নির্ভর করে সাংবাদিক ও মিডিয়া হাউজের ওপর। যারা সাংবাদিকতার নীতি ও নৈতিকতা মেনেছেন, তারা সব আমলেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন।‘


তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় স্বাধীন সাংবাদিকতাকে উৎসাহ দেয় না। বিশেষ করে সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদের ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠান দুই পক্ষের ওপরেই চাপ আসে। যারা নিরপেক্ষ থেকেছেন, তারা স্বাধীন ছিলেন; আর যারা দল বা ব্যক্তির অনুসারী হয়েছেন, তারা প্রকৃত সাংবাদিকতা করতে পারেননি।‘


শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি জুবায়েদুল হক রবিন বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসের পরিবেশ এখনো সাংবাদিকদের পক্ষে অনেক ভালো। তবে জাতীয়ভাবে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা এখনো সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারছে, এটি আশাব্যঞ্জক।‘ 




শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস, সাংবাদিকতা, সিলেট সাংবাদিক, অপসাংবাদিকতা, মিডিয়া

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ