০৫ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

জগন্নাথপুর

টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকে গ্রাহকের তালা, ছেলের ইউরোপ যাত্রা অনিশ্চিত

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৮ অক্টোবর, ২০২৫ ৯:৪২ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অ্যাকাউন্টে টাকা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পেরে ক্ষোভে এক্সিম ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এক গ্রাহক। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। 


এ অবস্থায় ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পারায় ছেলের ইউরোপ যাত্রা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় ভুগছেন ক্ষুব্ধ ওই গ্রাহক।

 

এদিকে তালা ঝুলানোর ফলে ব্যাংকের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিছু সময়ের জন্য ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

 

ভুক্তভোগী গ্রাহক আব্দুল ছালিক উপজেলার সাচায়ানী নন্দিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগম প্রায় দুই বছর ধরে এক্সিম ব্যাংকের ওই শাখায় অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে আসছেন।

 

আব্দুল ছালিক জানান, ছেলেকে ইউরোপে পাঠানোর জন্য লন্ডনে থাকা এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। জরুরি প্রয়োজনে পুরো টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাধা দেয়। 

 

তার অভিযোগ, ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁকে কোনো সঠিক আশ্বাস বা সমাধান না দিয়ে বরং সপ্তাহে মাত্র ৫ হাজার টাকা করে তুলতে পারবেন বলে জানান। ছেলের ভিসা ও যাত্রা সংক্রান্ত খরচের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তার টাকার প্রয়োজন। ব্যাংক কোনো যুক্তি ছাড়াই তাকে টাকা তুলতে দিচ্ছে না।

 

একাধিক অনুরোধেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল মঙ্গলবার তিনি ব্যাংক শাখার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ব্যাংকের ভেতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ থাকেন। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাংকের এই ধরনের আচরণে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, একজন নিয়মিত গ্রাহক হয়েও নিজের টাকা তুলতে না পারা চরম অন্যায় ও ভোগান্তিকর।

 

এ বিষয়ে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আব্দুল ছালিকের পরিবারের দাবি, এই পরিস্থিতিতে তাঁর ছেলের ইউরোপ যাত্রা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

এক্সিম ব্যাংক, জগন্নাথপুর, গ্রাহকের তালা, টাকা উত্তোলন জটিলতা, সুনামগঞ্জ ব্যাংক সংবাদ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ