অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই প্রাণ যায় বাবা-মেয়েসহ ৫ জনের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ৯:৪৩ অপরাহ্ন
সরকারি খাস ভূমি দখলের চেষ্টা, গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও হয়রানির অভিযোগে অ্যাডভোকেট শামীম আহমদের ওকালতি সনদ বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের তেঘরী গ্রামের বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরানবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তেঘরী গ্রামের আঙ্গুর মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে আঙ্গুর মিয়া বলেন, গ্রামের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে কয়েক কোটি টাকার সরকারি খাস জমি রয়েছে। মৃত আয়াত উল্লাহ, তার পুত্র চান মিয়ার ছেলে সাজ্জাদুর রহমান এবং চাচাত ভাই অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ ওই জমি একাধিকবার দখলের চেষ্টা চালান। এতে গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ কৃষক ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সরকারি জমি রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নীরব। ইউএনও, এসিল্যান্ড ও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারা দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের দাপটকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। আমরা দাবি জানাই, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং অ্যাডভোকেট শামীমের ওকালতি সনদ বাতিল করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তেঘরী মৌজার জেএল নং ৪৪ এর এসএ দাগ নং ৯, ১১০, ১৫২, ১৭৭সহ কয়েকটি দাগের ভূমি পূর্বে সিলেট শহরের খাজাঞ্চী বাড়ির জমিদার কালীপ্রসাদ চক্রবর্তীসহ ১১ জন জমিদারের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। গ্রামবাসী জমিদারদের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি গোচারণভূমি ও খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
অভিযোগে বলা হয়, মাঠ জরিপের সময় দুর্নীতিবাজ সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাদের সহায়তায় আয়াত উল্লাহ ঘুষের মাধ্যমে মন্তব্য কলামে নিজের নাম লেখান। এরপর জাল দলিল তৈরি করে সরকারকে প্রথম বিবাদী করে একাধিক মামলা করেন তারা, যেগুলো আদালত একের পর এক খারিজ করে দেয়।
তবে মামলায় পরাজিত হওয়ার পরও আয়াত উল্লাহর উত্তরসূরিরা—চান মিয়া, তার ছেলে সাজ্জাদুর রহমান ও আত্মীয় অ্যাডভোকেট শামীম—বছরের পর বছর নতুন নতুন মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে হয়রানি করে আসছেন বলে দাবি করেন বক্তারা।
আঙ্গুর মিয়া আরও জানান, ওই জমি দখলের চেষ্টায় অ্যাডভোকেট শামীম অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীর বাধায় তারা পালিয়ে যায়।
গ্রামবাসীর দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৫ মে ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন—সরকারি খাস ভূমি দখল করতে না পেরে অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ গ্রামের নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছেন।
বিশ্বনাথ, সংবাদ সম্মেলন, সিলেট, সনদ বাতিলের দাবি