০৫ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

গোলচত্বরের অপরিকল্পিত স্তম্ভ এখন ট্রাফিকের ‘বিষফোঁড়া’

মিফতা হাসান

প্রকাশঃ ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৫:৪০ অপরাহ্ন


২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার সিলেট নগরীর আয়তন বেড়ে এখন প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটারে। ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ থেকে ৪২টি। প্রায় ১০ লাখ মানুষের এই শহরে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, হকারদের দৌরাত্ম ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। 


এ পরিস্থিতিতে নগরীর যানজট নিরসন ও চলাচল সহজ করতে সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এতে করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিভিন্ন মোড়ে অবস্থিত স্তম্ভ-স্থাপনা সড়কের একপাশে চলে যাওয়ায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। উল্টো মোড়ের জায়গা সংকুচিত হয়ে যানজট আরও বেড়ে যাচ্ছে। 


পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, এসব স্তম্ভ ‘ট্রাফিক সায়েন্সের’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যতটি মোড়ে এসব স্তম্ভ রয়েছে, সেসব স্থানে  দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের।


নগর পরিকল্পনাবিদ বলছেন, ছোট সড়কে বিউটিফিকেশনের নামে অপরিকল্পিত স্তম্ভ নির্মাণ করা ঠিক নয়। আগে শহরকে তৈরি করতে হবে। পরে শহরকে সাজাতে হবে। 


নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন সড়কের গোল চত্বরে স্তম্ভ নির্মাণ করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরীর আম্বরখানা, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, নয়াসড়কসহ  অন্তত ১০ থেকে ১৫টি মোড়ে স্তম্ভ-স্থাপনা রয়েছে। সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব ছাড়ার আগ মুহূর্তে এসব চত্বরের নামকরণও করেন। সৌন্দর্যবর্ধনকারী এসব স্তম্ভ এখন ট্রাফিকের ‘বিষফোঁড়া’।


সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালে এসব স্থাপনা অপসারণ করাসহ নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৩ দফা প্রস্তাবনা দেয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।


১৩ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল-নগরীর ভেতরে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়মের মধ্যে আনা, নগরীর সোবহানীঘাট সবজি বাজার স্থানান্তর, সড়ক দখল করে বসা হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা করা বা উচ্ছেদ করা, নগরীর বিভিন্ন চত্বরের স্থাপনা বা ফোয়ারা অপসারণ বা পুনর্বিন্যাস করা, সিলেট নগরীকে আলোকিত করা, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা অথবা অব্যহৃতগুলো অপসারণ করা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স স্থাপন ও কিছু সড়ক ওয়ানওয়ে করা।


স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ রাজন দাশ জানান, ‘ছোট সড়কে বিউটিফিকেশনের নামে অপরিকল্পিত স্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আগে শহরকে তৈরি করতে হবে। পরে শহরকে সাজাতে হবে। বিশেষ করে খুব গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শহরের মধ্যে খোলা জায়গা রাখা।’ 


সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন চত্বরের মধ্যে হুমায়ুন রশিদ চত্বর কোনোভাবেই ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে যায় না। এটা সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত একটি চত্বর। এটা ত্রিভুজ আকৃতির। এখানে ট্রাফিককে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটা অপসারণ করতে হবে নতুবা পুনর্বিন্যাস করতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, মেন্দিবাগ পয়েন্টে যেটা আছে সেটচার ব্যাস অনেক বেশি। এটার ব্যাস আরও ছোট হলেও পারতো। সোবহানীঘাট পয়েন্টে পয়েন্টের এটা কোনোভাবেই যায় না। এটার জন্য যানবাহন ইবনেসিনার দিকে ইউটার্ন নিতে পারে না। তাছাড়া, ফোয়ারা পয়েন্ট, নাইরপুল, নয়াসড়ক ও আম্বরখানা পয়েন্ট সবকটি পয়েন্টেই সমস্যা হচ্ছে। চৌহাট্টা পয়েন্টে কিছুটা বড় হওয়ায় আপাতত চালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। 


তিনি বলেন, প্রত্যেকটা পয়েন্টে সমেস্যা। আমরা সকল ফোরামেই বার বার অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। আগে কেন হয়নি সেটাও জানা নেই। 


সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার সিলেট ভয়েসকে বলেন, আগে এসএমপির পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল সেটি মূখ্য বিষয় না। বর্তমানে যদি তাদের পক্ষ কে প্রস্তাবনা বা পরামর্শ আসে তবে বৈঠক করে সেটি আমলে নেওয়া হবে।’


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট সিটি করপোর্শেন, গোলচত্বর, স্তম্ভ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ