০৫ মে ২০২৬

দৈনন্দিন / মৃত‍্যু

স্কলার্সহোম শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যৃর মামলা, দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৭:৫১ অপরাহ্ন

ছবিঃ নিহত শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়াল। সংগৃহীত

সিলেটের স্কলার্সহোম শাহীঈদগাহ শাখার শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়ালের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় মামলাটি করেন দানিয়ালের চাচা তারেক ইসলাম।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে বাদ আসর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। 

এর আগে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকায় নিজ বাসার একটি কক্ষ থেকে দানিয়ালের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছে পুলিশ। 

তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এইচএসসি‘র প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় দানিয়াল ফল খারাপ করায় তার মাকে ডেকে নিয়ে শ্রেণি শিক্ষক খারাপ আচরণ করেন। এমনকি কলেজ থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তার বাবাকেও কলেজে ডেকে অপমান করা হয়। এই ক্ষোভ থেকেই সে আত্মহত্যা করেছে। 

দানিয়ালের বাবার চাচাতো ভাই আব্দুস শুকুর বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এইচএসসি প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অসুস্থতার কারণে দুটি বিষয়ে সে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। আর অংশগ্রহণ করা বিষয়ের মধ্যে তিনটিতে খারাপ করেছে। গত মঙ্গলবার খারাপ ফলের জন্য দানিয়ালের মাকে কলেজে ডেকে নেন শ্রেণি শিক্ষক। এসময় তার মার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন ওই শিক্ষক। পরে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে কলেজ থেকে বের করার হুমকি দেন। পরদিন ফের বাবাকে নিয়ে কলেজে যান দানিয়াল। এদিন তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় দিয়ে দেন। পরে দানিয়ালকে তার বাবা বাসায় পাঠিয়ে দেন। বাসায় আসার পর মা তাকে শান্ত্বনা দেন এবং অন্য কলেজে ভর্তি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এ অবস্থায় সে তার কক্ষে গিয়ে ছোট একটি রশি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে আত্মহত্যা করে। 

তিনি বলেন, দানিয়াল স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ শাখায় ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে পড়াশোনা করছে। তার বড় বোনও ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। 

আব্দুস শুকুর বলেন, এ ঘটনার পর কলেজের পক্ষ থেকে দু:খ প্রকাশ করা হয়েছে। জানাজায় অধ্যক্ষ নিজে এসেছিলেন। কিন্তু যে শ্রেণি শিক্ষক দানিয়ালের মাকে অপমান করেছিলেন, তিনি আসেননি। 

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ শাখার অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) মুনীর আহমেদ কাদেরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাঁড়া দেননি। 

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় তার চাচা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। পরে তার ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

স্কলার্সহোম সিলেট, আত্মহত্যা, পরীক্ষায় ফেল, সিলেট, শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ