অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই প্রাণ যায় বাবা-মেয়েসহ ৫ জনের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১১ আগস্ট, ২০২৫ ১০:৫৭ অপরাহ্ন
উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হওয়া পুলিশের এসআই আকবর হোসেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এই মামলার আসামি সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিছুদিন আগে আরেক আসামি সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই মো. হাসান উদ্দিন জামিনে বেরিয় পালিয়ে গেছে। এবার প্রধান আসামি আকবর জামিনে ছাড়া পেলো। সেও পালিয়ে যেতে পারে।’
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি এসআই আকবরের জামিনে মুক্তির প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে গতকাল রোববার বিকেলে হাইকোর্টের আদেশে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে জামিনে মুক্তি পান পুলিশি হেফাজতে আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামী তৎকালীন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন।
আলোচিত হত্যা মামলায় প্রধান আসামীর জামিনে মুক্তির প্রতিক্রিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার রায়হান উদ্দিনের মা সালমা বেগম বলেন, ‘এসআই আকবরের নির্যাতনে আমার ছেলে রায়হান মারা গেছে। এসবের সাক্ষ্যপ্রমাণও রয়েছে। প্রমাণ থাকার পরও হাইকোর্ট তাকে কিভাবে জামিন দেয়, এটি কেমন বিচার?’
তিনি আরও বলেন, ‘আসামি যদি এভাবে জামিনে মুক্তি পায় তাহলে বিচার কিভাবে হবে? অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে কিসের বিচার। এত আলোচিত ঘটনারও যদি বিচার না হয় তাহলেতো আরও রায়হানরা মারা যাবে।’
রায়হান হত্যার বিচার নিশ্চিতে সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাই আগের মতো আমাদের পাশে না দাঁড়ালে বিচার পাবো না। রায়হান মরার সময় তার দুই মাসের একটি মেয়ে রেখে গেছে। বিচার না পেলে এই মেয়ের কাছে আমি কী জবাব দেবো। আমার পুরো পরিবারটা ধ্বংস হয়ে গেছে।’
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর গভীর রাতে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান উদ্দিনকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছিল রায়হানের। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে রায়হানের স্ত্রী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর একটি তদন্ত করে গঠন করে মহানগর পুলিশ। তদন্তে রায়হানকে ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করার সত্যতা পাওয়ায় দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।
এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আকবরকে ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২১ সালের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্যরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।
রায়হান হত্যা, সিলেট, এসআই আকবর, পুলিশ , জামিনে মুক্তি