০৪ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

অটোরিকশার জন্য আকুতি প্রতিবন্ধী দুই ভাইয়ের

প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৩ জুলাই, ২০২৫ ৭:২৩ অপরাহ্ন


বয়স ৬৩ ছুঁইছুঁই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া লিলু মিয়া এখনও ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী রাজন বিবি (৫৫) তাঁর সঙ্গী। দু’জনের রোজগারে কোনও মতে চলে পরিবারের খরচ। কিন্তু তাতে কী আর কুলায়? কারণ, এই দম্পতির বড় দুই ছেলে জন্ম থেকেই মানসিক, শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামের এই পরিবারের বড় ছেলে রমজান আলী (৩৫) এবং মেঝো ছেলে জাবিল হোসেন (২৯)। দুই সন্তানই দিনের বেশিরভাগ সময় বিছানায় পড়ে থাকেন। কথা বলতে পারেন না, নিজের কাজ নিজে করতে পারেন না। চিকিৎসা করাতে পারেননি বাবা-মা, অর্থের অভাবে।

আলাপে রাজন বিবি বলেন, 'জন্ম থেকেই এই দুই ছেলে অসুস্থ। কী যে কষ্ট, তা বোঝাতে পারব না। অনেক চিকিৎসা করিয়েছি, কিছু হয়নি। এখন খাবার জোটাতেই হিমশিম খাই। ওদের জন্য হুইলচেয়ার কেনাও আমাদের পক্ষে সম্ভব না।'

এই পরিবারে এখন ভরসার একমাত্র নাম ছোট ছেলে সুহেল মিয়া (২৪)। দিনমজুরি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলার চেষ্টা। কিন্তু এই চেষ্টা টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

দুই প্রতিবন্ধী ছেলের সেবা, চিকিৎসা ও তিন সদস্যের মুখে খাবার তোলার লড়াইয়ে হেরে যেতে বসেছে পরিবারটি। তার ওপর বহু বছর আগে বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন আশ্রয়কেন্দ্রই তাদের ঠিকানা।

রাজন বিবির আকুতি, 'ছোট ছেলেটা যদি একটা অটোরিকশা পেত, তাহলে আমরা একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম। অন্তত দুই ছেলের মুখে একটু ভালো খাবার দিতে পারতাম।'

দোয়ারাবাজার উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এসার মিয়া বলেন, 'এই পরিবারটি চরম অসহায়। আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুটি হুইলচেয়ার ও একটি অটোরিকশা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, 'দুইটি হুইলচেয়ার দেওয়ার জন্য আমরা আশ্বাস দিয়েছি। এছাড়া অটোরিকশার বিষয়টি বিবেচনার জন্য সমাজসেবী ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।'


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ