ডিজেল সংকটে বেড়েছে হারভেস্টারের ভাড়া, সংকটে হাওরাঞ্চলের কৃষক
কৃষি
এবছর ১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩২০ কোটি টাকা।
প্রকাশঃ ৬ মে, ২০২৫ ৯:২৯ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হওয়ায় জেলার কৃষকদের মধ্যে বাদাম চাষে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উল্লেখযোগ্য হারে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি মৌসুমে জেলায় ত্রিদানা, বারি, চীনাবাদাম, বিনা-৪, বিনা-৮ এবং ঢাকা জাতসহ অন্তত আট ধরনের বাদামের চাষ হয়েছে। বোরো ধান কাটার পর বাদামের এই ভালো ফলন কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাদাম চাষে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। হালকা চাষের পর সরাসরি বীজ বপন করলেই হয়। বেলে দোআঁশ মাটি ও উঁচু জমি বাদাম চাষের জন্য আদর্শ। মাঝেমধ্যে পরিচর্যা ও সামান্য ইউরিয়া সার প্রয়োগেই চলে। বীজ বপন ও উত্তোলনের সময় শ্রমিক খরচ ছাড়া তেমন কোনো অতিরিক্ত ব্যয় নেই। ফলে স্থানীয় কৃষকরা বিশেষ করে বালু জমিতে বাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এবারের ফলন ভালো হওয়ায় তারা ভীষণ খুশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে এবার ১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। যার মধ্যে তাহিরপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি বাদামের আবাদ হয়েছে। এখানে ১ হাজার ৪২১ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬৩ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ আশা করছে, মে মাসের ৩০ তারিখের মধ্যেই জেলার শতভাগ বাদাম উত্তোলনের কাজ সম্পন্ন হবে।
তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামের কৃষক ফারুক আলী বলেন, ‘এবার আড়াই কিয়ার জমিতে বাদাম করেছিলাম। ফলন খুব ভালো হয়েছে, এখন শুকাচ্ছি। ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে আমরা খুশি হবো।‘ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বছর ৪-৫ কিয়ার জমিতে বাদাম চাষ করবো।’
বাদাঘাট গ্রামের কৃষক কামরুল মিয়া বলেন, ফলন ভালো হয়েছে, যদি ভালো দাম পাই তবে বেশ লাভ হবে।” কৃষক আল-আমীন বলেন, ‘গত বছর তেমন ফলন হয়নি, কিন্তু এবার অনেক ভালো হয়েছে। প্রায় সব কৃষকই ভালো ফলন পেয়েছেন, তাই সবার আগ্রহ বাড়ছে।’
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ বলেন, ‘সুনামগঞ্জের মাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা উন্নত মানের বীজ সরবরাহ করেছি, যার ফলে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচ ও অধিক লাভের সম্ভাবনায় কৃষকদের মধ্যে বাদাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।’
সুনামগঞ্জ, বাদাম চাষ, সাফল্য, আগ্রহ, কৃষি