সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ৯:০৪ অপরাহ্ন
সিলেটের সীমান্ত জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এই তিন উপজেলার অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি কৃষি, বালু-পাথর ও পর্যটন। এরমধ্যে বালু-পাথর উত্তোলনের সঙ্গেই নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় এই ইস্যুটিই তিন উপজেলার মানুষের আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যুটিকেই কেন্দ্র করে চলছে রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণা। কেউ বলছেন পাথর উত্তোলনের কথা আবার কেউ বলছেন পর্যটন শিল্পের বিকাশের কথা। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী পাথর ইস্যুতে একেক জায়গায় বলছেন একেক কথা।
গতকাল বুধবার (বুধবার) জৈন্তাপুর উপজেলায় নির্বাচনী জনসভায় আরিফ বলেন, পরিবেশের দোহাই দেওয়া আর চলবে না। এটা আর হতে দেয়া হবে না, আমাদের হিস্যা আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে।
অন্যদিকে আজ বৃহস্পতিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একটি জনসভায় বলেন, কোম্পানীগঞ্জকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এই এলাকায় শিল্প, কলকারখানা গড়ে উঠবে। ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে পরিবেশ রক্ষা করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করতে হবে।
এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠছে আসলে আরিফুল হক চৌধুরী বাস্তবে কী চান। পাথর উত্তোলন নাকি পর্যটন শিল্পের বিকাশ।
বুধবার জৈন্তাপুর এলাকায় জনসভায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পরিবেশের দোহাই দেওয়া আর চলবে না। এটা আর হতে দেয়া হবে না, আমাদের হিস্যা আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। আমরা রাষ্ট্রের ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি চাইনা। তবে সনাতন পদ্বতিতে আমরা পাথর উত্তোলন করে এই এলাকা ও দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই।
অন্যদিকে, আজ বৃহস্পতিবার কোম্পানীগঞ্জে এক জনসভায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কোম্পানীগঞ্জকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এই এলাকায় শিল্প,কলকারখানা গড়ে উঠবে। ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এসময় তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের এই এলাকার রাস্তাঘাট দেখে আমি হতভম্ব। এই যুগে রাস্তা-ঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, চিকিৎসা ব্যবস্থার এমন বেহাল অবস্থা মেনে নেয়া যায় না। বিএনপি সরকার গঠন করলে পাথর কোয়ারি খুলে দেয়া হবে। সুন্দর পরিবেশ রক্ষা করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করতে হবে। হাজার হাজার শ্রমিক, কর্মজীবি মানুষদের বেকার রেখে উন্নয়ন কিভাবে হয়?
এদিকে আরিফুল হক চৌধুরী এমন বক্তব্যে সন্দিহান ভোটাররা। তিনি কী চান তা স্পষ্ট হচ্ছে না। কোম্পানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, ‘আরিফুল হক চৌধুরীর বক্তব্য একেক জায়গায় একেক রকম, একবার তিনি বলেন পাথর উত্তোলন চালু করবেন আবার বলেন পর্যটন বান্ধব এলাকা গড়ে তুলবেন। একইসঙ্গে দুটো কাজ তিনি কীভাবে করবেন। আরিফকে এমন দ্বিচারিতা পরিবর্তন করতে হবে।’
তাছাড়া পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, সাধারণত পাথর উত্তোলন ও বালু উত্তোলনকে বৈধ করতেই সনাতন পদ্ধতি শব্দটার ব্যবহার করা হয়, তবে বাস্তবে আমরা এখনো সনাতন পদ্ধতির ব্যবহার করতে দেখিনি, শুধুমাত্র কাজটা হাসিল করতে গেলেই সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় কিন্তু প্রকৃত চিত্রে পরিবেশ ধ্বংস করেই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করা হয়।
সিলেট, আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৪ আসন, বিএনপি