ইংরেজি শেখার সেরা ৫ বই: ঘরে বসেই বাড়ান দক্ষতা
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ৩ আগস্ট, ২০২৫ ৯:২১ অপরাহ্ন
সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম যাত্রা এখন যেন এক ‘উভয় সংকট’। সড়কপথে চলছে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। এতে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হয় যানজটে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।
অন্যদিকে রেলপথেও যাত্রীরা পড়ছেন সীমাহীন ভোগান্তিতে। একদিকে টিকিটের সংকট, অন্যদিকে ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি। এছাড়াও রয়েছে হিজড়াদের চাঁদাবাজি, হকারদের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত যাত্রাবিরতি। সব মিলিয়ে ভ্রমণ এখন এক ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিলেটের যাত্রীদের কাছে।
ঢাকা-সিলেট রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন তিন ব্যবসায়ী আবুল বাশার, লিয়াকত আলী ও আবদুল হান্নান জানান, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাঁদের প্রতি সপ্তাহেই ঢাকা যেতে হয়। আগে শোভন চেয়ারে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সিন্ধা (এসি) টিকিট কাটার পরও যাত্রা আরামদায়ক হয় না।
তাঁরা জানান, সিলেট ছাড়ার পরই ট্রেনে ওঠে হিজড়াদের একটি দল। কুলাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ ও আজমপুর স্টেশন থেকে আরও তিনটি গ্রুপ ওঠে। প্রতি গ্রুপে হিজড়ারা যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে দাবি করে। ফলে একজন যাত্রীকে পুরো যাত্রায় ৪০–৫০ টাকা শুধু হিজড়াদেরই দিতে হয়।
তাঁরা আরও জানান, হকারদের চিৎকারে ট্রেনে অবস্থান করাই কষ্টকর হয়ে যায়। পান, সিগারেট, চানাচুর, কলা, গামছা থেকে শুরু করে যা খুশি বিক্রি করছে হকাররা। শোভন চেয়ার, সিন্ধা কিংবা এসি কেবিন—সব জায়গাতেই তাঁদের দখলদারি।
কাতার প্রবাসী ও কুলাউড়ার বাসিন্দা আতিকুর রহমান জানান, কুলাউড়া থেকে টিকিট না পেয়ে নিরাপদ যাত্রার আশায় সিলেট থেকে সিন্ধা টিকিট কাটেন। কিন্তু আজমপুর পৌঁছার পর এসি বগিতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা ভিড় করতে থাকেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব হয়ে নরসিংদী পর্যন্ত এসি বগিতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীতে গমগম করে। এসি বগির যাত্রীরাও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।
ট্রেন থেকে নামার পর আরও দুর্ভোগ। যাত্রীদের অভিযোগ, কমলাপুর স্টেশনে শুধু সিলেটি যাত্রীদের বেশি হয়রানি করা হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে আটকানো হয়। আবার টাকা দিলেই মিলে মুক্তি।
এছাড়া সিলেট-ঢাকা রুটের সব ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রাবিরতি থাকায় এগুলো প্রায় লোকাল ট্রেনের মতো হয়ে গেছে।
গত ২ জুলাই ঢাকা থেকে ফেরার পথে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন মৌলভীবাজারের বাসিন্দা ও দৈনিক আলোকিত সকালের জেলা প্রতিনিধি মামুন তরফদার। এয়ারপোর্ট স্টেশন ছাড়ার পর নিজের আসনে অন্য একজনকে বসে থাকতে দেখে প্রতিবাদ করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাকে মারধর করে রক্তাক্ত করেন ওই যাত্রী ও তার সহযোগীরা।
১৩ জুলাই কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে ফেরার পথে মৌলভীবাজারের আরেক যাত্রী এবং দৈনিক আমার সংবাদের জেলা প্রতিনিধি রাহেল আহমদের স্ত্রীর গলায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথর এসে পড়ে, তাতেও আহত হন তিনি।
আরও একটি ঘটনা ঘটে গত ২৫ জুলাই। ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন আজমপুর স্টেশনে পৌঁছার পর ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। যদিও সিলেট থেকে ছাড়ার আগেই ইঞ্জিনে ত্রুটির লক্ষণ ছিল। পরে শ্রীমঙ্গল থেকে আড়াই ঘণ্টা পর একটি ইঞ্জিন এনে ট্রেন চালু করা হয়। এতে ট্রেনটি রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। প্রায়শই লাউয়াছড়া পাহাড় অতিক্রমের সময় ট্রেনের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়, এতে ওই পথ পার হতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রোমান আহমদ বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ নামে একটি স্পেশাল ট্রেন চালুর সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এমনকি সিডিউলও পাঠানো হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ট্রেনটি আর চালু হয়নি। শুধু ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ নয়, মৌলভীবাজার জেলাকে পর্যটন জেলা ঘোষণা করায় সিলেট-কক্সবাজার এবং সিলেট-ময়মনসিংহ রুটেও দুটি নতুন স্পেশাল ট্রেন চালু করা প্রয়োজন।
সিলেট স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের দূর্ভোগের কথা বললে শেষ হবে না। ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েও রহস্যজনকভাবে বাতিল হয়েছে। সিলেটের পক্ষ থেকে কেউ দাবি তোলে না, সেটাই দুঃখজনক। যদি একটি স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়, তাহলে নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু অসাধু লোকজনের হয়রানির সুযোগও আর থাকবে না।
সিলেট ট্রেন যাত্রী ভোগান্তি, কালনী এক্সপ্রেস সমস্যা, সিলেট-ঢাকা ট্রেন, সিলেট রেল যোগাযোগ