এমপি নাসির চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে গুজব, নেতাকর্মীদের ক্ষোভ
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১ জুলাই, ২০২৬ ৩:৪৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাটে খাসিয়ামারা নদী পারাপারে এখনো ভরসা রশি টেনে চালানো খেয়া নৌকা। প্রায় ৫০ বছর ধরে এভাবেই নদী পার হচ্ছেন পাঁচ গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিনের দাবির পর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তা শেষ হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, রোগী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলীপুর, নুরপুর, সুনাপুর, বৈঠাখাই ও হাসনবাহার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ এই খেয়াঘাট। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার সম্ভব হলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বাড়ে। বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় বাধ্য হয়েই রশি টেনে নৌকায় নদী পার হন তারা।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে খাসিয়ামারা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২২ সালে আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাট এলাকায় সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তবে কাজ শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পরও সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা রুমন মিয়া বলেন, ‘সেতু হলে আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া সহজ হতো, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যেত। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাজ ধীরগতিতে চলছে। কখনো শ্রমিক কাজ করেন, আবার দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করা প্রয়োজন।’
স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক বিল্লাল হোসেনের অভিযোগ, ঠিকাদার নিয়মিত কাজ করেন না। তাঁর ভাষ্য, ‘এক বছর কাজ হয়, আবার দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। শুনেছি শ্রমিকদের সময়মতো টাকা না দেওয়ায় অনেকেই কাজ ছেড়ে চলে যান। বর্ষাকালে নদী পারাপার তখন আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।’
খেয়া নৌকার মাঝি আম্বর আলী বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে একই অবস্থা। কখনো কাজ চলে, কখনো বন্ধ থাকে। গভীর রাতেও অসুস্থ রোগী নিয়ে মানুষ ফোন করেন নদী পার করে দেওয়ার জন্য। সেতুটি হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্মাণাধীন সেতুর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে একটি স্লাব এবং দুই পাশের সংযোগ সড়কের এক পাশের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন এই পর্যায়ে এসে কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিলে প্রকল্পটি আরও বিলম্বিত হবে। তাই বর্তমান ঠিকাদারের মাধ্যমেই দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’
সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, ভোগান্তি