২৯ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন

ছাত্রদল-এনসিপি সংঘর্ষ

কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: সারজিস আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ন

ছবিঃ ভিডিও থেকে নেওয়া

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। এসময় তাদের বহনকারী গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলেন তিনি। 

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এসময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে সোনালী ব্যাংকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত ৮টায় তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায় পুলিশ।

 

পরে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটে গেছে। জেলা সদস্য সচিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের সামনেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এরা আওয়ামী লীগের খুনি বাহিনীকে ছেড়ে যাইতেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে আবার মাঠে নামতে হবে। এরা ভুলে গেছে ১৭ বছর কীভাবে জুলুমের শিকার হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে কি হয়েছে তারা ভুলে গেছে।’

 

তিনি বলেন, আমাদের সমালোচনা পছন্দ না হলে কথা দিয়ে সমালোচনা করেন। গায়ের জোর দেখালে আগের সাথে পার্থক্য নেই। 

 

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে  সমাবেশে এনসিপি নেতারা বিএনপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে ‘গুন্ডাবাহিনী’ বলে বক্তব্য রাখেন। এতে ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলে পদযাত্রা শেষে এনসিপি নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদল। 

 

এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী এনসিপি নেতাদের ধাওয়া দেন। এতে সারজিস আলম, নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী ও স্থানীয় এনসিপি নেতা মুবিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদেরকে সোনালী ব্যাংকে অবরুদ্ধ করে রাখা হলে পুলিশ উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে পৌছে দেয়।

  

এ বিষয়ে এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

 

তবে জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। অন্য কেউ এর দায়ভার নেবে না।’

 

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, এনসিপির পদযাত্রা শেষে ছাত্রদলের নেতারা বিক্ষোভ করেন। এতে উত্তেজনা দেখা দিলে আমরা ঘটনাস্থলে পৌছে কয়েকজন এনসিপি নেতাকে সার্কিট হাউজে পৌছে দিয়েছি।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, হবিগঞ্জ, সারজিস আলম

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ