ভূমধ্যসাগরে নৌযান ডুবে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২
অভিবাসন
প্রকাশঃ ৩১ মার্চ, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রীস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দিরাই থানায় চার মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশী জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান বাদি হয়ে মামলটি দায়ের করেছেন।
মামলায় আসামীরা হলেন-দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মৃত আকিব উল্লাহর ছেলে মুজিবুর মিয়া, জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালি প্রবাসী সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাও গ্রামের ছায়েক আহমেদ ও ছাতক উপজেলার জসিম মিয়া।
এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত কয়েকজন আসামী রয়েছেন। দিরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তবরুক বন্দর থেকে নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় যাত্রা শুরু হলেও মাঝ সাগরে পথ হারিয়ে ফেলে নৌকাটি। টানা ছয় দিন ভাসতে থাকে সেটি।
খাবার ও পানির সংকটে একসময় অসহায় হয়ে পড়েন যাত্রীরা। ক্লান্তি, ক্ষুধা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় একে একে নিভে যায় প্রাণ। অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয় নৌকাতেই। পরে দালালদের নির্দেশে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে ১১জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার উপজেলায়। নিহতদের পরিবারগুলোর অভিযোগ, দালালচক্রের মিথ্যা আশ্বাসে পড়ে তাঁরা এই বিপজ্জনক পথে পা বাড়ান। প্রথমে কম টাকার প্রলোভন দেখানো হলেও পরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় খরচ। অনেক ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী জানান, চারজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনা তদন্ত করছে।
ভূমধ্যসাগর, অভিবাসনপ্রত্যাশী, প্রাণহানি, মৃত্যু