২১ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

এহতেশাম হকের সংবাদ সম্মেলন

প্রার্থিতা বাতিলে রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘হিপোক্রেসি’র অভিযোগ

প্রকাশঃ ৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ৫:২৪ অপরাহ্ন

ছবিঃ এনসিপি প্রার্থী এহতেশামুল হকের সংবাদ সম্মেলন

সিলেট-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মনোনীত প্রার্থী এহতেশাম হক তার প্রার্থিতা বাতিলে সিলেটের রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘হিপোক্রেসি’র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, একই ধরণের পরিস্থিতিতে অন্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হলেও তার ক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে ।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এহতেশাম হক বলেন, ‘আমি পূর্ণ সততার সাথে গত ২৯ ডিসেম্বর আমার মনোনয়ন পত্র দাখিল করি। বাংলাদেশে সাধারণত মানুষ সততার আশ্রয় নেয় না, কিন্তু আমি লিখেছি যে আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল এবং তা আমি সারেন্ডার করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি লিখতে পারতাম যে আমি দ্বৈত নাগরিক না, যেমনটা অনেকে করে। কিন্তু আমি অসততার সাথে জনগণের প্রতিনিধিত্বের আবেদন করতে চাইনি।’

রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার বললেন আমি প্রপার কাগজপত্র দিতে পারিনি, তাই আমারটা বাতিল। ঠিক ৩০ সেকেন্ড পরে তিনি সিলেট-৩ এর প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিলেন।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার নিজে প্রণোদিত হয়ে বললেন হোম অফিস যেহেতু বন্ধ, তাই তিনি কন্ডিশনালি (শর্তসাপেক্ষ) আব্দুল মালেক সাহেবের মনোনয়ন বৈধ করলেন। আমার প্রশ্ন-আমার ক্ষেত্রেও তো হোম অফিস বন্ধ ছিল, আমার ক্ষেত্রেও তো রিটার্নিং অফিসার কন্ডিশনালি দিতে পারতেন ।’

এহতেশাম হক এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না দেখে পুরো ব্যবস্থার ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা অন্যায় এবং দ্বিচারিতা। এটা শুধু এহতেশাম হকের প্রার্থিতার ব্যাপার না, এটা পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের আমলাতন্ত্রের একটা সিমটম । প্রশাসনের এই হিপোক্রেসিটা যাতে দেশবাসী জানে, সেজন্যই আপনাদের মাধ্যমে এটা তুলে ধরছি। আমি চাই আইন যেন আমার ওপর ঠিক অন্য সবার মতোই সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়।’

বড় নেতাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন বক্তব্যে তিনি বড় রাজনৈতিক নেতাদের নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘কেন প্রশ্ন উঠছে না যে সদ্য বিদেশ ফেরত জনাব তারেক রহমানেরও তো দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল? কেন সাংবাদিক সমাজ বা সচেতন সমাজ এই প্রশ্ন করে না যে আপনার দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে কি না, থাকলে ছেড়েছেন কি না ?’

এছাড়াও তিনি শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর উদাহরণ টেনে বলেন, ‘উনার অ্যাপ্লিকেশনে উনি উল্লেখ করেছেন উনি দ্বৈত নাগরিক ছিলেন, কিন্তু ফেনীর রিটার্নিং অফিসার তো প্রশ্ন করলেন না যে ত্যাগ করার প্রমাণ দিন ।’

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখানে স্পষ্টত একটা আসন্ন সরকারের বা একটা বড় রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ । এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কমিশন কিভাবে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? কিভাবে নিশ্চিত করবে যে কেউ কেন্দ্র দখল করবে না।’ 

তিনি জানান, এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এহতেশাম হকের মতে, বর্তমানে ক্ষমতার একটি বড় কেন্দ্র তৈরি হয়েছে যা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠীর অনুকূলে কাজ করছে ।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

প্রার্থীতা বাতিল, আপিল, এহতেশামুল হক, এনসিপি প্রার্থী, সংবাদ সম্মেলন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ