২১ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

হলফনামা বিশ্লেষণ

সাত বছরে আরিফের সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ, স্ত্রীও এখন কোটিপতি

আহমেদ জামিল

প্রকাশঃ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১:১৬ অপরাহ্ন

ছবিঃ আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেট-৪ (জৈন্তুপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ আসনে বিএনপির প্রার্থী সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সম্পদ বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। একই সঙ্গে সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রী সামা হক চৌধুরীরও।

 

২০১৮ সালের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের হলফনামার সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

 

সিটি নির্বাচনের পর ৭ বছরের ব্যবধানে আরিফ-সামা দম্পতির বার্ষিক আয় ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নগদ অর্থও স্বামী আরিফের চেয়ে বেশি সামা হক চৌধুরীর কাছে।

 

মূলত ব্যবসা ও বিভিন্ন বিনিয়োগ খাত থেকে তাঁদের এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জিত হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য তাদের এই বিত্ত বৈভবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও উপার্জন রয়েছে। 

 

হলফনামা বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে আরিফুল হক চৌধুরীর বাৎসরিক আয় ছিল ৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে এসে তার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৬ টাকায়। অর্থাৎ আয় বেড়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা।

 

২০১৮ সালের হলফনামায় আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রীর ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩০০ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৯ টাকায়। আরিফের স্ত্রীর আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসার কথা বলা হয়েছে।

 

আরিফুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে কৃষিখাতে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৩০ টাকা, বাড়ি অ্যাপার্টম্যান্ট ও বাণিজ্যিক খাত থেকে আয় ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা ও এই খাতে তার স্ত্রীর আয় ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৪ টাকা, ব্যবসা থেকে আরিফের আয় ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৯ টাকা ও তার স্ত্রীর আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, শেয়ার থেকে আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার ৯৪ হাজার টাকা ও স্ত্রীর আয় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৫ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরিফের আয় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪০৩ টাকা।

 

নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আরিফের বর্তমান অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৪ টাকা। এই সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ২৯ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৪ টাকা। ২০১৮ সালে আরিফুল হক চৌধুরীর নিজের অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭১৩ টাকার। এই ৭ বছরে সম্পত্তি বেড়েছে ২ কোটিরও বেশি টাকার।

 

হলফনামায় আরিফের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৪ টাকা। যা অর্জনকালীন সময়ে ছিল ১ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ৭৮৪ টাকা।

 

২০১৮ সালে আরিফের স্ত্রীর নামে আরিফুল হকের স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর আয় ছিল ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া তাঁর মেয়ের মালিকানাধীন বাসা থেকে ভাড়া ১ লাখ ৮ হাজার ও নির্ভরশীলদের কৃষি খাত থেকে ৩০ হাজার টাকা পান। আরিফুল হকের মায়ের নামে একটি ফ্ল্যাট ও দশমিক শূন্য ৩ একর অকৃষিজমির কথা উল্লেখ ছিল। 

 

হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে-আরিফুল হক চৌধুরী অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে ৫ হাজার ৯১৮ ডলার ও ৬ হাজার ৮৩১ পাউন্ড, ব্যাংকে জমা ১ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার ৮৭৯ টাকা, বন্ড-শেয়ার ৩৮ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৫ টাকা, পোস্টাল-সঞ্চয় ৫৩ হাজার ৫ লাখ ২১৫ টাকা, মোটরগাড়ি ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪৮ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র ৩ লাখ টাকা।

 

আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা ৩৫ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রার ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮১ টাকা, পোস্টাল-সঞ্চয় ৫৮ লাখ টাকা, মোটরগাড়ি ১২ লাখ টাকা, ২৭ ভরি স্বর্ণ, আসবাবপত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮ হাজার ৭৮৪ টাকা।

 

বর্তমানে আরিফের স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ টাকার। যার অর্জনকালীন সময়ে মূল্য ছিল ৬ কোটি ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ টাকা। বর্তমানে আরিফের স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা। এসব সম্পত্তির অর্জনকালীন সময়ে মূল্য ছিল ৫ কোটি ৭৫ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা।

 

স্থাবর সম্পদের মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরীর নামে ২০ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ টাকার কৃষি জমি, ৮৯ লাখ ৯ হাজার ৩৬৪ টাকার, বাড়ি অ্যাপার্টম্যান্ট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকা, চা বাগান ও খামার ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, অন্যান্য ৪ কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৬ টাকা।

 

আরিফের স্ত্রী শামা হক চৌধুরীর নামে অকৃষি জমি রয়েছে ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, বাড়ি ও অ্যাপার্টম্যান্ট রয়েছে ৫ কোটি ৬০ লাখ ১ হাজার ২০৭ টাকার।

 

এছাড়াও আরিফুল হক চৌধুরীর নামে ব্যাংকে ঋণ ২ কোটি ৩৯ লাখ ১১ হাজার ২৬৫ টাকা ও তার স্ত্রীর নামে ৯৯ লাখ ৫৪ হাজার ৪০১ টাকা ঋণ রয়েছে। 


ফুটনোট: ২০১৮ সালের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরীর দাখিল করা হলফনামা থেকে সংগৃহিত তথ্য সঠিকভাবে না লিখায় প্রতিবেদনটি কিছুটা তথ্যগত ভূল ছিল। পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়েছে। এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

সাত বছর, আরিফ, সম্পদ, বেড়েছে দ্বিগুণ, স্ত্রী, কোটিপতি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ