সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:১২ পূর্বাহ্ন
সিলেট-১ আসনে যে দল জেতে, সেদল সরকার গঠন করে। মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যে ১০জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, তাদের বিত্তবৈভবে রয়েছে বৈচিত্র। ৪ জন কোটিপতি প্রার্থীদের ভিড়ে ৬ জন প্রার্থীর সম্পদ লাখের ঘরে। আয়ের হিসেবে বিত্তশালী প্রার্থীদের ভিড়ে টিউশনী করে চলা একজন প্রার্থীও রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিত্তের বিচারে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য থাকলেও একটি জায়গায় ৯জন প্রার্থীদের মধ্যে মিল রয়েছে। এই ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন ন্যূনতম স্নাতক পাশ। তবে একজন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণী পাশ।
হলফনামায় প্রার্থীদের আয়ের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছয়জন প্রার্থীই তাদের আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসার করা উল্লেখ করেছেন। বাকি চারজনের মধ্যে দুইজন আইনজীবী, একজন পরামর্শক এবং একজন ব্যক্তিগত শিক্ষক।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বার্ষিক প্রায় ৩৯ লাখ ২১ হাজার টাকা আয় নিয়ে আয়ের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা। আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। ব্যবসা থেকে যার বার্ষিক আয় ২০ লাখ টাকার ওপরে।
পেশায় আইনজীবী বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। অপরদিকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশে ফেরা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হক পরামর্শক হিসেবে দেশে ও বিদেশে আয় করেন ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়ার আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী তাজুল ইসলাম হাসানের ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের ৪ লাখ ১৪ হাজার ২৩৭ টাকা এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনের ৪ লাখ টাকা।
আয়কর আইনজীবী ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পালের বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা। আয়ের এই তালিকায় সবচেয়ে নিচে রয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) প্রার্থী সঞ্জয় কান্ত দাস, যার একমাত্র উৎস টিউশনি থেকে বার্ষিক আয় মাত্র ২৫ হাজার টাকা।
সম্পদের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এর পরেই রয়েছেন সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, যার মোট সম্পদ সাড়ে ৩ কোটি টাকার ওপরে। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়ার সম্পদ ২ কোটি ৩৪ লাখ এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মাওলানা হাবিবুর রহমানের ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনের সম্পদ ২১ লাখ, বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের ১৮ লাখ ৫০ হাজার, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসানের ২৪ লাখ, এনসিপির এহতেশামুল হকের ১৪ লাখ ৬০ হাজার, খেলাফত মজলিস তাজুল ইসলাম হাসানের ১৪ লাখ এবং বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্ত দাসের ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
তবে এসকল প্রার্থীর মধ্যে সঞ্জয় কান্ত দাস, এহতেশামুল হক ও মাহমুদুল হাসানের কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই।
সিলেট-১ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকলেও শিক্ষার ক্ষেত্রে ৯জন প্রার্থীই উচ্চ শিক্ষিত। তবে একজন প্রার্থী রয়েছেন ৮ম শ্রেণী পাশ।
শিক্ষাগত যোগ্যতার শীর্ষে আছেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এনসিপির এহতেশামুল হক, জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান ও খেলাফতের তাজুল ইসলাম হাসান। এদের মধ্যে মুক্তাদীর, আনোয়ার ও এহতেশাম স্নাতকোত্তর পাশ, হাবিবুর, কামিল ও তাজুল দাওরায়ে হাদীস।
অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান এবং বাসদ-এর প্রণব জ্যোতি পাল দুজনেই এলএলবি ডিগ্রীধারী। বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্ত দাস ও ইনসানিয়াতের শামীম মিয়া স্নাতক। গণঅধিকারের আকমল হোসেন ৮ম শ্রেণী পাশ। তবে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে তিনি এডএক্সেল বিটেক লেভেল-৩ সম্পন্ন করেছন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সিলেট-১, মুক্তাদির, এহতেশাম, হাবিব