২১ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

সুনামগঞ্জে বিএনপি–জামায়াত এগিয়ে, স্বতন্ত্র প্রার্থীতে জটিল সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৯:১১ অপরাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে দিন দিন বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হাওর অধ্যুষিত এই জেলার গ্রাম, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আসন্ন জাতীয় নির্বাচন।
 
বর্তমানে সুনামগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা প্রচারণায় তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। তবে ইসলামপন্থি কয়েকটি দলের প্রচারণা এখনো সীমিত পরিসরে রয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ৮ দলীয় জোটের সমীকরণ জেলার একাধিক আসনে ভোটের অঙ্ককে জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
 
এবার পাঁচটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সক্রিয়। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক প্রার্থীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন বিশেষ করে সুনামগঞ্জ–৩ ও সুনামগঞ্জ–৪ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব আসনে ভোটের হিসাব কিছুটা জটিল হতে পারে। তবে অনেক ভোটারই জানিয়েছেন, তাঁরা শিক্ষিত, মার্জিত ও কর্মীবান্ধব প্রার্থীকেই ভোট দিতে আগ্রহী।
 

সুনামগঞ্জ–১ (তাহিরপুর–জামালগঞ্জ–মধ্যনগর–ধর্মপাশা)


এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সম্পাদক আনিসুল হক। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি হাট-বাজার ও গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠকসহ নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। তাঁর প্রচারণায় তরুণ ও যুব ভোটারদের মধ্যে সাড়া দেখা যাচ্ছে।
 
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদ খান পথসভা ও জনসংযোগ চালাচ্ছেন। ৮–দলীয় জোটের সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও মাঠে তাঁদের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ছে না।
 

সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা)


এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি সভা ও পথসভায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় হয়েছেন।
 
জামায়াতের তুলনামূলক তরুণ প্রার্থী শিশির মনির ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে আলোচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি জমিয়তের প্রার্থী মাওলানা শোয়াইব আহমদও প্রচারণা চালাচ্ছেন।
 

সুনামগঞ্জ–৩ (জগন্নাথপুর–শান্তিগঞ্জ)


এই আসনে বিএনপির প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কায়ছর এম আহমদ। তবে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জটিল হয়েছে।
 
এ ছাড়া জামায়াতের অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান, খেলাফত মজলিসের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আব্দুল হাই ও এবি পার্টির সৈয়দ তালহাও প্রচারণায় রয়েছেন।
 

সুনামগঞ্জ–৪ (সুনামগঞ্জ সদর–বিশ্বম্ভরপুর)


এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। তিনি বড় পরিসরে গণসংযোগ শুরু করেছেন এবং তাঁর পক্ষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী মাঠে রয়েছেন।
 
অন্যদিকে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করায় বিএনপির ভোটব্যাংকে প্রভাব পড়বে কি না—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। জামায়াত, খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদ, জমিয়ত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও এখানে সক্রিয়।
 

সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার)


এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন টানা প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতের আব্দুস সালাম আল মাদানী, জমিয়তের নুরুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের আলী আকবর সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে এই আসনেও নির্বাচনী প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন, সুনামগঞ্জ, বিএনপি, জামায়াত, স্বতন্ত্র প্রার্থী

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ