হবিগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে নারীসহ তিনজনের মৃত্যু, আহত ৪
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ৯ মে, ২০২৫ ৬:২৫ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর বড়খালের ওপর এলজিইডি নির্মিত সেতুটি তিন বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেতুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনও তা সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুইটি পিলার দেবে গিয়ে হেলে পড়েছে, মাঝের দুইটি পিলারে ফাটল ধরেছে এবং সেতুর একাংশের রেলিং ভেঙে গেছে। পূর্ব পাশে ধসে যাওয়া সংযোগ সড়ক স্থানীয়দের উদ্যোগে মাটি দিয়ে ভরাট করে যানচলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও তা অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছোট যানবাহন ও পথচারীরা প্রতিদিন প্রাণ হাতে নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালের বন্যায় বড়খালের প্রবল স্রোতে সেতুর মাঝের পিলার নিচে দেবে যায় এবং অ্যাপ্রোচ রোড ধসে পড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এক বছর পর স্থানীয়দের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের পথ তৈরি করা হয়। তবে সেতুটি এখনো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
কান্দারগাঁও গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, 'তিন বছরেও সেতু সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে আছি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।'
জগদীশপুর গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, 'বর্ষায় খালে পানি বেড়ে গেলে সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।'
স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুস সোবহান বলেন, 'এই সেতু দিয়ে কলকলিয়া ইউনিয়নের পাশাপাশি দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।'
স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসনা বেগম বলেন, 'সেতুর সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।'
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, 'বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বড়খালের সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।'
জগন্নাথপুর, বড়খাল সেতু, কলকলিয়া ইউনিয়ন, সুনামগঞ্জ