রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি
সংগ্রাম-স্বাধীনতা
প্রকাশঃ ১৫ জুলাই, ২০২৫ ১:৫১ অপরাহ্ন
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ইতিহাসে সেদিনটি গভীরভাবে খোদাই হয়ে আছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর মধ্যরাতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলা এর প্রতিবাদে পরদিন পুরো ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের কোটা আন্দোলনকারীদের রাজাকার আখ্যায়িত করার পর শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে সৈয়দ মুজতবা আলী হল থেকে শুরু হয় ‘তুমি কে, আমি কে রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগানে গর্জে ওঠা প্রতিবাদ মিছিল ওই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। অভিযোগ উঠে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন কয়েকজন শিক্ষার্থীকে। পরদিন (১৫ জুলাই) সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে প্রধান ফটকে জড়ো হতে থাকেন। ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’ এই স্লোগানে মুখর হয় গোটা ক্যাম্পাস।
গোলচত্বর হয়ে মিছিল পৌঁছে যায় ছাত্রী হলের সামনে। সেখান থেকে দুই শতাধিক ছাত্রী বিক্ষোভে যোগ দেন। এক পর্যায়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী শাহপরান হল থেকে পাল্টা মিছিল নিয়ে গ্রন্থাগার ভবনের সামনে আসেন। সেখানেই দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা মানবপ্রাচীর তৈরি করে অবস্থান নেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাধার মুখে ওইদিন তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন গুরুতর আহত।
ক্যাম্পাসের উত্তেজনা গড়ায় নগরজুড়ে। ওইদিনই দুপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এমসি কলেজ ও সরকারি কলেজ থেকে লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল বের করেন। সেই সময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে মিছিল ঘুরে বেড়ায় টিলাগড়, রিকাবীবাজার, আম্বরখানা ও চৌহাট্টা এলাকায়। ওইসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগেই হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
শাবিপ্রবি, ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান, সিলেট, কোটা আন্দোলন