হবিগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে নারীসহ তিনজনের মৃত্যু, আহত ৪
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২২ জুন, ২০২৫ ১:৩৪ অপরাহ্ন
সিলেট নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড। এতে করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং কাজলশাহ এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এসব অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড গড়ে ওঠেছে। এসব অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি না নিলে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চলাচেলে বাধা সৃষ্টি করেন পরিবহন শ্রমিকরা।
প্রশাসনের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এসব অটোরিকশা রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও সাধারণ যানবাহনের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে আসা রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে অসুবিধার মুখে পড়তে হয় স্বজনদের।
স্থানীয় এবং হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সামনে রাস্তার বড় একটা অংশ দখল করে প্রতিনিয়ত গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলতে অপেক্ষা করেন অটোরিকশাচালকরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বের হলে চালকরা এসে তাঁদের কাছে ভিড় জমান। জরুরী ভিত্তিতে রোগীরা তাঁদের গাড়িতে উঠলে অধিকাংশ সময় তারা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন।
এতে করে বাধ্য হয়েই রোগী নিয়ে এসব গাড়িতে যাতায়াত করতে হয় রোগীর স্বজনদের। তাছাড়া বিভিন্ন সময় রোগীরা তাঁদের গাড়িতে যেতে না বললে চালকরা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার পর্যন্ত করেন।
এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতাল কিংবা এর আশেপাশের এলাকায় এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নাহিয়ান হোসেন জানান, চিকিৎসা শেষ করে হাসপাতাল থেকে বের হতেই কয়েকজন গাড়িচালক এসে তাঁকে ঘিরে ধরেন। এ সময় তিনি একটি গাড়িতে ভাড়া জানতে চাইলে চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। পরে তিনি ওই গাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়ি করে রওয়ানা হন।
সুনামগঞ্জের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আল-আমিন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, 'স্ত্রীকে নিয়ে কয়েকদিন হলো হাসপাতালে ভর্তি আছি। ঔষধ বা অন্যকোনো প্রয়োজনে রাস্তা পার হতে গেলেই দেখা যায় গাড়িচালকরা রাস্তার একটা বড় অংশ দখল করে বসে আছেন। গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছেন, উচ্চশব্দে আওয়াজ করে যাত্রীদের ডাকাডাকি করছেন। ফলে তীব্র যানযট তৈরী হওয়ার পাশাপাশি শব্দ দূষণও বাড়ছে। এতে শুধু রোগীদের নয়, স্বজনদেরও সমস্যা হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'অতি দ্রুত নগর কর্তৃপক্ষকে এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো দুর্ভোগ বেড়ে গিয়ে আরও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।'
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি জাকারিয়া আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সিলেট ভয়েসকে বলেন, 'অবৈধ গাড়ি পার্কিং বা স্ট্যান্ডের ব্যাপারে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করা সত্ত্বেও এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি। রাস্তায় বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবৈধ গাড়ি পার্কিং বা স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।'
সিলেট, অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড