২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাস-ঐতিহ্য / ঐতিহ্য

ভালো নেই বিশ্বনাথের বাঁশ-বেতের কারিগররা

বদরুল ইসলাম মহসিন, বিশ্বনাথ, সিলেট

প্রকাশঃ ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ৪:২০ অপরাহ্ন

ছবিঃ বাঁশ দিয়ে গৃহস্থালি জিনিসপত্র তৈরি করছেন একজন কারিগর

"যেখানে গ্রাম, সেখানে বাঁশঝাড়"-এটাই ছিল এক সময় গ্রামীণ জীবনের চিরায়ত রূপ। বাঁশ ও বেত ছিল শিল্পের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। বাজেট যদি কম থাকে, তবুও-বেতের তৈরি আসবাপত্র দিয়েই ঘরকে আকর্ষণীয় করে তোলা যেত। বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় আর বেত বনের ঐতিহ্য একসময় ছিল প্রতিটি গ্রামের গর্ব, তবে কালের পরবর্তনে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাঙলার ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি।


একই অবস্থা  প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। এই শিল্পের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিল। বাঁশের ব্যবহারও ছিল বহুমুখী-ঘর, মাচা, মই, মাদুরসহ নানান গৃহস্থালি কাজে এর চাহিদা ছিল অনেক।


সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এখন আর আগের মতো ভালো নেই বাঁশ-বেতের কারিগররা। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের এই সময়ে বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্যের কদর অনেকটাই কমে গেছে। একসময় প্রতিবেশী উপজেলার (যেমন জগন্নাথপুর, ছাতক) মানুষজন বিশ্বনাথে এসে বাঁশের তৈরি আসবাব কিনতেন। এখন আর কেউ আসে না।


উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একসময় অনেক বাঁশ-বেতের দোকান থাকলেও বর্তমানে কয়েকটি বাজার ছাড়া আর কোথাও তেমন দেখা যায় না। পৌর শহরে এখন মাত্র দুটি দোকান রয়েছে।


তবে এখনও কিছু কারিগর আছেন, যারা হাল ছাড়েননি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এ উপজেলায় বাঁশ-বেতের কারিগরদের অনেক কদর ছিল। বাড়িঘর তৈরি থেকে শুরু করে কৃষিকাজে নানান উপকরণ তৈরিতে তাদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে চাহিদা, গড়ে উঠেছে ইট-পাথরের ঘরবাড়ি। ফলে বাঁশ-বেতের চাহিদা ও তাদের সঙ্গে জড়িত মানুষের সংখ্যাও কমেছে।


বিশ্বনাথের লামাকাজি ও পৌর শহরের কারিকোনা রোডের পাশে ভাড়া করা জায়গায় প্রায় ১০-১২ বছর ধরে বাঁশ-বেতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ছদ্মনাম মিয়া। তিনি জানান, তারা মানুষের ঘরে চুক্তিভিত্তিক বাঁশ-বেতের কাজ করে থাকেন।


কারিগর মিনহাজ বলেন, “আমরা এখানে ৬/৭ জন মিলে নিয়মিত কাজ করি। ঘরের ছাদের চাহিদা এখনো অনেক, কিন্তু দক্ষ কারিগরের অভাবে কাজ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া, চাহিদা অনুযায়ী বাঁশ, রং ও অন্যান্য উপকরণের দাম অনেক বেশি হওয়ায় অনেকেই আর আসবাব তৈরি করতে আগ্রহী নন।”


স্থানীয় কারিকোনা গ্রামের আবুল কালাম বলেন, “এক সময় প্রায় প্রতিটি গ্রামে বিশাল বাঁশঝাড় ছিল। এখন বাঁশ-বেত শিল্প বিলুপ্তপ্রায়। আগের মতো কদর না থাকায় অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।”


শেয়ার করুনঃ

ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে আরো পড়ুন

বাঁশ বেত শিল্প, গ্রামীণ ঐতিহ্য, বিশ্বনাথ সিলেট, বাঁশঝাড়, বেতের আসবাব, হারিয়ে যাওয়া শিল্প, গ্রামীণ কারিগর, বাঁশ শিল্প বাংলাদেশের, বিশ্বনাথ বাঁশ বেত, লোকশিল্প সিলেট, বাঁশের ব্যবহার, সিলেটের ঐতিহ্য

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ