সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ ১:৫০ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পোস্টারবিহীন প্রচার। প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন প্রচারে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে নির্বাচনী আমেজে। তবে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় এই উদ্যোগের ফলে পরিবেশ রক্ষা পেয়েছে ‘হুমকির’ মুখ থেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্টারবিহীন প্রচারণায় নির্বাচনী মাঠে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা গাছপালায় নেই রঙিন পোস্টার। এতে নির্বাচনী জৌলুস ও উচ্ছাস কমলেও স্বস্তি ফিরেছে পরিবেশে।
নগরজুড়ে রশিতে টানানো ‘মার্কা’ ওয়ালা পোস্টার না থাকায় নির্বাচনকে উৎসব মনে হচ্ছে না অনেক ভোটারের। ভোটারদের অনেকে বুঝে উঠতে পারছেন না, কোন প্রার্থীর কি প্রতীক।
তবে নির্বাচনী আসনগুলোতে দেখা যায়, প্রার্থীরা উঠান বৈঠক, মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পরিবেশবান্ধব এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। পরিবেশকর্মীরা মনে করছেন-পরিবেশকে বাঁচাতে ইসির এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে শুধু উদ্যোগ নয়- এর বাস্তবায়নের তদারকি প্রয়োজন। তারা বলছেন, এবারের নির্বাচন পোস্টারবিহীন হলেও পরিবেশবান্ধব নির্বাচন হচ্ছে। আচরণবিধি মেনে প্রার্থীদের দেশ ও মানুষের কল্যাণের মাধ্যমেই শুরু হোক নির্বাচনের যাত্রা।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।
এ লক্ষ্যে লিফলেট, পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অপচনশীল দ্রব্য যেমন পলিথিন, প্লাস্টিক বা রেক্সিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে কোনো ধরনের ফেস্টুন বা পোস্টার টাঙানোও নিষিদ্ধ।
সিলেট-১ আসনের ভোটার জসিম উদ্দীন বলেন, ‘আগে নির্বাচনের পোস্টার দেখেই বুঝতাম কার প্রতীক কোনটা এখন এসব বুঝি না।’
তরুণ ভোটার আদনান সাকিব বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা প্রার্থী ও প্রতীক সম্পকে জানতে পারি। তাছাড়া নির্বাচনী এলাকাতে বিলবোর্ডও ব্যবহার করা হয়েছে। তাই আলাদা করে নির্বাচনী পোস্টার সাঁটানোতে বিধি নিষেধ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।’
নির্বাচনী এলাকায় দলীয় প্রচারণা করছেন ছাত্রদল নেতা শোয়েব আহমদ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মতে আমরা প্রচার-প্রচারণা করছি। প্রার্থীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বুঝাচ্ছি। এতে আশা করি ভোটাররা প্রার্থী ও প্রতীক চিনতে সমস্যা হবে না।’
এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী শাহ শিকান্দার আহমদ শাকির বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এবার নির্বাচনে পোস্টার লাগানো নিরুৎসাহিত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা পরিবেশ সংরক্ষণে একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। প্রতি বছর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য যে বিপুল পরিমাণ কাগজ এবং প্লাস্টিক লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার করা হয়, তা মূলত আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
তিনি বলেন, ‘আগে নির্বাচনে ব্যবহৃত পোস্টার ড্রেনে পরে ড্রেন বন্ধ হয়ে যেত, বর্জ্যের পাহাড় তৈরি হতো। রাজনৈতিক প্রচারণায় গাছ ও দেয়াল নষ্ট হতো। গাছে পেরেক মেরে পোস্টার সাঁটানো হতো-এটা খুবই দুঃখজনক। এবার হয়ত তা আর হবে না। পোস্টার নিষিদ্ধ থাকায় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকছে।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পোস্টারহীন, প্রচার, ভাটা নির্বাচনী, আমেজ, পরিবেশ, স্বস্তি