১৭ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রচার গাড়ি ভাঙচুর ‘নতুন রাজনৈতিক চিন্তা ধ্বংসের শামিল’ : শিশির মনির

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ ৩:৪০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে একটি প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে নতুন রাজনৈতিক ধারার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন শিশির মনির। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিতে নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে জনগণ আবারও মুখ থুবড়ে পড়বে এবং পুরনো খিস্তিখেউড়ের রাজনীতি দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে দিরাইয়ে তাঁর প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পর শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি।

শিশির মনির বলেন, রাজনীতিতে কারও যদি নতুন চিন্তা, পরিকল্পনা ও সৃজনশীল উদ্যোগ থাকে, তবে তা নিয়েই জনগণের সামনে আসা উচিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশে এক ধরনের অসহিষ্ণু রাজনৈতিক আচরণ বাড়ছে, যা মোটেও কাম্য নয়। দিরাইয়ে কী ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত-তা নিরপেক্ষভাবে খুঁজে বের করা জরুরি। কোনো ঘটনা ঘটলে তা অস্বীকার করার সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে একটি প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অথচ কেউ কেউ বলছেন, কিছুই হয়নি বা তারা কিছু জানেন না। এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ঘটনা ঘটেছে-এটি স্বীকার করাই প্রথম দায়িত্ব।


শিশির মনিরের মতে, দিরাইয়ে যে প্রচারণা চলছিল, সেটি ছিল দেশের চলমান কয়েকটি সৃজনশীল রাজনৈতিক উদ্যোগের একটি। একটি গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ভিডিওচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষকে যুক্ত করা হচ্ছিল। সেই গাড়ি ভাঙা মানে শুধু একটি যানবাহন নষ্ট করা নয়; এটি একটি নতুন রাজনৈতিক চিন্তাকে ধ্বংস করার শামিল। কে বা কোন পক্ষ এটি করেছে-তা যাই হোক না কেন, বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া। প্রকাশ্যে বলতে হবে-এ ধরনের সহিংসতা যেই করুক, তা আমরা সমর্থন করি না।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শিশির মনির বলেন, আজকের মানুষ অনেক বেশি সচেতন। রাজনীতির নামে গালাগালি, বকাবকি কিংবা ফাঁকা কথাবার্তা দিয়ে সমাজ এগিয়ে নেওয়া যায় না। দিরাই কিংবা শাল্লার মানুষের সামনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। যুক্তিনির্ভর বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।

তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও হুমকি, কোথাও ধর্মভিত্তিক বিভাজন, আবার কোথাও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কে সাম্প্রদায়িক আর কে অসাম্প্রদায়িক-এই বিতর্কে সমাজ এগোয় না।

শিশির মনির বলেন, ৫ আগস্টের পরও যদি আমাদের শিক্ষা না হয়ে থাকে, তাহলে আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। সাময়িক সুবিধার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করা উচিত নয়। নতুন প্রজন্ম খিস্তিখেউড়ের রাজনীতি চায় না; তারা চায় বাস্তবসম্মত সমাধান ও নেতৃত্বের সক্ষমতা।

শেষে তিনি বলেন, জটিল সমস্যার সমাধানে সক্ষমতা দেখাতে পারলেই জনগণ কাউকে গ্রহণ করবে। অন্যথায় দল পরিচয় যাই হোক না কেন, মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে। দিরাইয়ে প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবার উচিত ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া, দোষীদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগী হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা। তবেই বোঝা যাবে, সত্যিকার অর্থে একটি ইতিবাচক বাংলাদেশ গড়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, দিরাই, প্রচার গাড়ি ভাঙচুর, শিশির মনির

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ