সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:১৩ অপরাহ্ন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ জমে উঠেছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পথসভা, বাজার বৈঠক, গণসংযোগ ও আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
এ অবস্থায় প্রার্থীদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও প্রচারণায় ব্যস্ত দিন পাড় করছেন। দলবেঁধে ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তাদের পক্ষের প্রার্থীদের জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন তারা।
আসনটিতে নির্বাচনী মাঠে এবার প্রার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে। নির্বাচনী এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্নের কথা।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। তারা এবার প্রতীক বেছে নেবেন, নাকি যোগ্য প্রার্থী, সেই বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এবার কাগজের পোস্টার না থাকায় প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচার চালাচ্ছেন, পথঘাটে টাঙানো হচ্ছে ব্যানার ও ফেস্টুন। বিশেষ করে ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রীতিমতো সৃজনশীল প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই আসনে জোরে-শোরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী। তাঁর বিপরীতে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামিসহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, আসনটিতে ততই নির্বাচনী উত্তাপ বেড়ে চলেছে। ভোটারদের এখন একটাই চিন্তা, দিরাই-শাল্লায় এবার কে হচ্ছেন আগামীর কাণ্ডারি? রাজনীতিতে নবীন ও বিজ্ঞ আইনজীবী শিশির মনির নাকি প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ নাছির চৌধুরী।
নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নিয়মিত প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সকল প্রার্থী। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকলেও প্রতিদিন দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন, পথসভা,বাজার বৈঠক সহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম পালন করছেন। দুইবারের সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবীণ নেতা হওয়ায় এই আসনে নির্বাচনী প্রচারণা তার জন্য অনেকটা সহজ হয়ে উটেছে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ও স্বশীরে প্রচারণায় ব্যস্ত জামায়াত ইসলামি সহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরও। তিনি তার নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে ভোটারদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। তাছাড়া প্রচার-প্রচারণায়ও কৃষক,দিনমজুর,প্রবাসী ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীদের সঙ্গে নিয়ে অপর প্রার্থীর চেয়ে তিনি ভিন্ন পন্থায় এগোচ্ছেন। এতে দিনদিন অনেক ভোটারদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছেন শিশির মনির।
দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুদ্র মিজান বলেন, নাছির চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা৷ দল মত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তিনি সকলের অভিভাবক৷ আমরা বিশ্বাস করি দলমত নির্বিশেষে সবাই নাছির চৌধুরীকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবেন এবং এটা সারা বাংলাদেশের জন্য একটা চমক হয় দাঁড়াবে৷
তরুণ প্রজন্মের ভোট দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হউক উল্লেখ করে মোহাম্মদ শিশির মনিরের ঘনিষ্ঠজন আনিসুল হক চৌধুরী মুন বলেন, সারা বাংলাদেশের মধ্যে দিরাই-শাল্লা এখনো অবহেলিত রয়ে গেছে। একমাত্র শিশির মনিরের মাধ্যমেই এই এলাকার উন্নয়ন সংগঠিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, শিশির মনির ইতোমধ্যেই এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উটেছে। জনগনও তাকে কাছে টেনে নিচ্ছেন। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে শিশির মনির বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচন, দিরাই-শাল্লা, সুনামগঞ্জ-২, নাছির চৌধুরী , শিশির মনির