সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ৩:০১ অপরাহ্ন
তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এই চার উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনটি আয়তনের দিক থেকে জেলার সবচেয়ে বড়। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯০ হাজার ৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪০ হাজার ৯১৫ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৬৮টি।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বাধীনতার পর এই আসন থেকে ছয়বার আওয়ামী লীগ, দুইবার কমিউনিস্ট পার্টি এবং একবার করে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি এবার নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ), ১০ দলীয় জোটভুক্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর তোফায়েল আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মোজাম্মেল হক তালুকদার (বই)।
রাজনীতিবিদের মতে, ইতিহাসে মাত্র একবার বিজয়ী হলেও বর্তমানে সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় বিএনপি এই আসনে এগিয়ে রয়েছে। তবে মনোনয়ন ঘিরে দলীয় হাইকমান্ডের নাটকীয় সিদ্ধান্ত নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থেকেও চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি নেতা আনিসুল হকের অনুসারীরা নির্বাচনের ফলাফলে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে।
স্থানীয় সচেতন ভোটারদের মতে, চার উপজেলাজুড়ে আনিসুল হকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক রয়েছে। চূড়ান্ত মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ায় তাঁদের একটি অংশ হতাশ হয়ে শুরুতে নির্বাচনী মাঠে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এমনকি তাঁদের একটি অংশ নীরবে জামায়াতকে সমর্থন দিতে পারেন এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি এক কর্মীসভায় আনিসুল হক দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল এটা দেশের মানুষ জানে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে মনোনয়ন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দলের প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি দলের পক্ষে কাজ করতে বলেছেন। আমি বিএনপির একজন কর্মী। ধানের শীষ ছাড়া আমাদের কোনো সমর্থন থাকতে পারে না।’
এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রচার–প্রচারণায় মনোনয়নবঞ্চিত আনিসুল হকের অনুসারীদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন তিনি। কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘আমি চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর আনিসুল ভাইসহ সব বলয়ের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছি। আমার কাছে ধানের শীষের সব কর্মী সমান। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ঐক্যবদ্ধ থাকলে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিপুল ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।’
অন্যদিকে এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নেজামে ইসলামের মোজাম্মেল হক তালুকদারকে ঘোষণা দেওয়া হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপে জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর তোফায়েল আহমদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন তিনি।
জামায়াতের নেতাকর্মীদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে দলটির রয়েছে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি। জেলা জামায়াতের আমীর প্রার্থী হওয়ায় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কাজে লাগানোর সুযোগ দেখছেন তাঁরা।
জামায়াতের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খাঁন বলেন, ‘ভোটারদের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ দাঁড়িপাল্লা সাদরে গ্রহণ করছে। তারা পরিবর্তন চায়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সুনামগঞ্জ, বিএনপি, জামায়াত