১৮ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, সিলেটজুড়ে উৎসবের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেট বিভাগের প্রার্থীরা। গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারণা শুরু হওয়ার পর প্রতিদিনই নগরী ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা, আলোচনা সভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন তারা। 

 

এছাড়া সকাল থেকে মাইকিং, পোস্টার-ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে প্রার্থীদের। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট কামনা করছেন তারা। নির্বাচনী এই ব্যস্ততায় বিভাগজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের প্রচারণা ও গণসংযোগ, মতবিনিময় ও আলোচনা সভা।  

 

এদিকে গ্রামাঞ্চলেও প্রচারণার চিত্র ভিন্ন নয়। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, তুলে ধরছেন নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও (ফেসবুক) প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। একইসঙ্গে সরাসরি মাঠে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত হচ্ছেন প্রার্থীরা। এক কথায় নির্বাচনে বিজয়ী হতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন তারা। 

 

শুধুমাত্র প্রার্থীরা নয়, তাদের পাশাপাশি সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যেও এখন মূল আলোচনার বিষয় নির্বাচন। দোকান-পাট, বসার স্থান, চায়ের দোকান ও আড্ডাস্থলগুলোতে আলোচনায় এখন আসন্ন নির্বাচন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, সিলেটের আশনগুলোতে নির্বাচনী উত্তাপ ততই বেড়ে চলেছে।

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা করতে সিলেটের গোলাপগঞ্জ আসেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। জনসভায় তিনি সিলেট-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সমর্থনে প্রচারণা করেন। মামুনুল হক বলেন, ‘যারা ‘না’ ভোটের বিপক্ষে প্রচার চালাবে, মানুষ বুঝে নেবে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী দিনে কেউ যেন দেশের বিপক্ষে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মাবলম্বীকে নিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই দেশে আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সংখ্যাগুরুদের অত্যাচার ও জুলুম চলবে না। ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে বিজয়ী হলে কোনো মেহনতি মানুষের ওপর খবরদারি থাকবে না, কোনো ব্যবসা কিংবা ঘর নির্মাণের জন্য চাঁদা দিতে হবে না।’

 

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর নেতৃত্বে পাঠানটুলা থেকে শুরু হওয়া একটি বিশাল মিছিল কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলটি মসজিদ গলি, মোহনা আবাসিক এলাকা, লন্ডনী রোড, সুবিদবাজার, হাজীপাড়া, বনকলাপাড়া, পীরমহল্লা, খাসদবীসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

 

গণসংযোগকালে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দুঃশাসন থেকে মুক্ত জনতা এখন একটি সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের যে ভোটাধিকার, সেটা তারা ফিরে পেয়ে আনন্দিত। এই আনন্দ আমরা প্রতিমুহুর্তে অনুভব করছি। একইসঙ্গে বিগত দিনে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত মানুষ তাদের প্রত্যাশার কথা আমাদেরকে জানাচ্ছেন। ইনশা আল্লাহ, মানুষের যে প্রত্যাশা, সামনের নির্বাচনে গণমানুষের দল বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।’

 

এ দিন বিকেলে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির একটি হলে সিলেট-১ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লার পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিচারব্যবস্থা ছিল পরাধীন। বিগত বছরগুলোতে আইনের শাসনের যে অভাব ছিল, তা দূর করার জন্য জামায়াত দেশের ২৬টি আসনে আইনজীবীদের প্রার্থী করেছে। জামায়াত বারবার অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের শিকার হলেও কখনো কাউকে অন্যায়ভাবে আঘাত করে নি। আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, তাহলে সেখানেও কারো সাথে কোনো অন্যায় করবো না। আমাদের বিচারব্যবস্থা থাকবে স্বাধীন। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে কেউ অন্যায়-অবিচারের শিকার হবেন না।’

 

অন্যদিকে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে নারীদের উন্নয়ন ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য নারীদের অবদানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। পরিবারের অভাব-অনটন দূরীকরনে নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘ইসলাম নারীকে যথাযোগ্য সম্মান ও অধিকার দিয়েছে। আমাদের মা-বোনদের ঘরের কোনে বন্দি না রেখে ইসলামী মূল্যবোধের গণ্ডির ভেতরে থেকেই তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

 

বিকেল ৪ টায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের দামুধরটুপি পয়েন্টে ধানের শীষের নির্বাচনী সভায় বিএনপি প্রার্থী কয়সর এম আহমেদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে বিএনপির গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের মাঝে উৎসব বিরাজ করছে। আমার নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে আপনারা যদি আমাকে বিজয়ী করেন তাহলে সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে।’

 

নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ। আম্বরখানার বাসিন্দা জাহাঙ্গির আহমদ বলেন, ‘ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, প্রচারণাও তত বাড়ছে। প্রার্থীদের সরাসরি গণসংযোগ ও পথসভা নির্বাচনী আমেজ আরও বাড়িয়ে তুলছে।’


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট বিভাগ, নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন, সিলেট, নির্বাচন প্রচারণা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ