সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
নির্বাচন
প্রকাশঃ ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ৯:০৭ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তির পর করণীয়, ব্যালট বাক্স ব্যবস্থাপনা, কিউআর কোড স্ক্যানিং, সময়সীমা এবং গণনা কার্যক্রমের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য তৈরি সফটওয়্যারে রিটার্নিং অফিসার লগইন করলে সংশ্লিষ্ট আসনের নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক চিত্র জানা যাবে। নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ৪০০ ব্যালটের জন্য একটি করে ব্যালট বাক্স ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিটি বাক্সে আসনের নম্বর ও নামযুক্ত স্টিকার সংযুক্ত করতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, প্রতীক বরাদ্দের পর অর্থাৎ আগামী ২১ জানুয়ারির পর থেকেই পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আসা শুরু হবে। এ জন্য প্রতীক বরাদ্দের দিন বা তার পরের দিন ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখতে হবে। ব্যালট বাক্স বন্ধের আগে প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে নির্ধারিত দিন ও সময় জানিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য লিখিতভাবে আহ্বান জানাতে হবে। উপস্থিত সকলের সামনে প্রতিটি বাক্সে চারটি করে সিল বা লক লাগানো হবে। কোনো বাক্স পূর্ণ হলে সেটি পঞ্চম সিল বা লক দিয়ে বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে আসনভিত্তিক নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে খাম সংরক্ষণ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ফরম-১২ আকারে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও প্রাপ্তির তালিকা সফটওয়্যার থেকে তৈরি হবে। কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যালট বাতিল করে খাম না খুলেই আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
ভোটার কিউআর কোড স্ক্যান না করে ভোট দিয়ে খাম ফেরত পাঠালে সেটিও বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে খাম খুলবে না এবং হিসাব রেখে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ভোট গ্রহণের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এর পর প্রাপ্ত ব্যালটগুলো গণনায় আনা হবে না।
পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য প্রতিটি আসনে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হবে। প্রতি ১০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একজন পোলিং অফিসার এবং প্রতি ১৫ জন পোলিং অফিসারের জন্য একজন করে সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন। গণনার সময় প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকেরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।
গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ফরম-১৬ক এবং গণভোটের ফলাফল ফরম-৪ এ লিপিবদ্ধ করে কপি প্রকাশ ও সরবরাহ করবেন। রিটার্নিং অফিসার সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের ফল যোগ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ফরম-১৮ এবং গণভোটের জন্য ফরম-৭ এ চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করবেন।
এ বিষয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রকল্প ‘ওসিভি-এসডিআই’-এর টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে জানান, অধিকাংশ পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে গেছে এবং তারা ভোট দিয়ে পোস্ট অফিসে জমা দিচ্ছেন। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
পোস্টাল ব্যালট, নির্বাচন কমিশন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট, প্রবাসী ভোটার