১৩ মার্চ ২০২৬

রাজনীতি / রাজনৈতিক দল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

কেন্দ্রীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও সিলেটে নেতৃত্ব নিয়ে চলছে দ্বন্দ্ব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৮ মে, ২০২৫ ১০:৪০ অপরাহ্ন


২০ দিন আগে সদস্য সচিব দেন আহ্বায়ককে অব্যাহতি। এবার সেই আহ্বায়ক দিলেন সদস্য সচিবকে অবাঞ্ছিত করার ঘোষণা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাতে জেলার সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ধর্ষণ করার হুমকির অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন এক যুগ্ম সংগঠক। নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে এমন হযবরল অবস্থা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেটের নেতাদের মধ্যে।


উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কেউ মানছেন না কাউকে। ফাঁটল ধরছে নেতৃত্বে। শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। দায়িত্বশীলদের মধ্যে এমন কাঁদা ছোড়াছুড়ির ঘটনায় দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়েছেন কর্মীরা। অনেকে সংগঠন থেকে নিজেকে সরিয়েও নিয়েছেন। সবমিলিয়ে নেতৃত্ব নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা জুলাই অভ্যূত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের সংগঠনটির।  


গত ১৬ এপ্রিল সংগঠনের আহ্বায়ক আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় সংগঠনের পদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন সিলেট জেলার সদস্যসচিব নুরুল ইসলাম। ২০দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (৮ মে) সেই সদস্যসচিব নুরুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আহ্বায়ক আকতার হোসেন। সদস্যসচিবের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও ভুয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (৮ মে) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংগঠনের সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার ব্যানারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এসময় আকতার হোসেনের সঙ্গে সংগঠনটির মহানগর শাখার নেতাকর্মীরাও ছিলেন। 


সদস্য সচিব নুরুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতে তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণ করার হুমকির অভিযোগ তুলে কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ করেছেন যুগ্ম সংগঠক সুমাইয়া আক্তার। সংগঠনের ফান্ড সেলের তথ্য চাওয়ায় নুরুল ইসলাম এমন হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।


গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সাংগঠনিক বিস্তৃতির অংশ হিসেবে সিলেট জেলায় ২৭৩ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সিলেট জেলার আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্যসচিব আরিফ সোহেল ছয় মাসের জন্য এই কমিটি অনুমোদন দেন।


কমিটিতে মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী আকতার হোসেনকে আহ্বায়ক ও সরকারি আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী নুরুল ইসলামকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটিতে ১২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৭ জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব, ১১ জনকে সংগঠক ও ২২৯ জনকে সদস্য করা হয়েছে।


গত ২৩ মার্চ একটি মামলায় আকতার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিনই তাকে জামিন দেন আদালত। এ ঘটনার পর গত ১৬ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকায় সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেন সিলেট জেলার সদস্যসচিব নুরুল ইসলাম। ২০দিনের মাথায় এবার সেই সদস্যসচিব নুরুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আহ্বায়ক আকতার হোসেন। সদস্যসচিবের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও ভুয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংগঠনটির জেলা ও মহানগর শাখার ব্যানারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জেলার আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, নুরুল ইসলামের  কর্মকাণ্ডের কারণে সংগঠনের মধ্যে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।


তিনি বলেন, সম্প্রতি তিনি একটি ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন, যা সংগঠনের জেলা কমিটির ২৭২ জন সদস্যের মধ্যে ২৫৪ জন সদস্য এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, এমনকি কেন্দ্রীয় কমিটিকেও বিষয়টি জানানো হয়নি। এককভাবে এবং অসাংগঠনিকভাবে সালমান আহমদ খোরশেদকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও আয়েশা সিদ্দিকা প্রিয়াকে ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে সিলেট জেলা থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।


এ বিষয়ে সংগঠনটির সিলেট মহানগর শাখার সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম সিলেট ভয়েসকে বলেন, আকতা্র হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তাকে নির্বাহী বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলা থেকে তিনি খালাস পেলে বিবেচনা করা হবে। এই সিদ্ধান্তে কেন্দ্রের মতামত রয়েছে বলে জানান তিনি।


কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ কম। বেশিরভাগ নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ায় কার্যক্রম কম। আকতার হোসেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্রের একজন নেতার সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমরা তাঁর (আকতার) বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। যারা আগে জেলা কমিটিতে ছিলেন তারা কেউ কেউ এনসিপিতে যোগ দিয়েছে। যারা পার্টিতে যোগ দেয়নি, তারা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদে কাজ করছে।  যার কারণে এই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।


তিনি বলেন, যারা এখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে ভর করে অনেকে ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধার করছেন এরকম অনেক অভিযোগ পেয়েছি। অস’ উদ্দেশ্যের লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় এরকম হচ্ছে। সিলেটেও এরকম হতে পারে।


তিনি বলেন, আমরা এখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে হস্তক্ষেপ করতে পারিনা। তবে তবে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে তারা এলে আমরা বসতে পারি।


এদিকে, যুগ্ম সংগঠক ও ফান্ড সেলের সদস্যের যৌন হেনস্তার অভিযোগ প্রসঙ্গে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম সিলেট ভয়েসকে বলেন, এরকম একটি অভিযোগ এসেছি। আমরা তদন্ত করে দেখছি।   




শেয়ার করুনঃ

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সিলেট ছাত্র রাজনীতি, সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম, আহ্বায়ক আকতার হোসেন, নেতৃত্ব দ্বন্দ্ব, যৌন হেনস্তা অভিযোগ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ