চারলেন সড়ক প্রকল্পে ধীরগতি, বৈদ্যুতিক খুঁটিই এখন বড় বাধা
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ৯ জুন, ২০২৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের যানজট নিরসন ও সড়কব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শুরু হওয়া চারলেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকেই নানা জটিলতায় কাজ ব্যাহত হলেও বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের দুই পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স। চলতি বছরের প্রথমার্ধে কাজ শুরু হলেও আগামী বছরের জুনে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সওজের কর্মকর্তারা জানান, সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নিতে বিদ্যুৎ বিভাগকে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রায় ৭০ শতাংশ খুঁটি অপসারণ করা হয়নি। ফলে কোথাও সড়কের মাঝখানে, কোথাও আবার ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটিগুলোকে পাশ কাটিয়ে কার্পেটিং ও অন্যান্য নির্মাণকাজ চালাতে হচ্ছে।
এ কারণে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এসব খুঁটি এখন কার্যত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুঁটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে সড়কের সিসি ও আরসিসি ঢালাইয়ের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে নির্মাণকাজের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরবাসী। তাঁদের অভিযোগ, অসম্পূর্ণ সড়ক, মাটি ভরাটের বাকি কাজ, অবৈধ দখল এবং নির্মাণসামগ্রী সড়কের পাশে ফেলে রাখার কারণে প্রতিদিনই যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছে।
শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা নূরুল হাসান আতাহের বলেন, “কাজের অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক। এখনো বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ হয়নি, অনেক স্থানে মাটি ভরাটের কাজও বাকি। প্রায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হবে বলে মনে হয় না।”
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহ বলেন, খুঁটি স্থানান্তরের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নিয়মিত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা বারবার সময় চাচ্ছে। খুঁটি অপসারণ না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিংবা তার আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুঁটি স্থানান্তরের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে সড়কের পশ্চিম পাশের প্রায় ৫৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। লোডশেডিং ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সওজের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও আগামী দুই মাসের মধ্যে সড়কের পূর্ব পাশের খুঁটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ, সড়ক ও জনপথ, নির্মানকাজ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড