১৩ মার্চ ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সিলেটে ভূমিধস জয়েও একটি আক্ষেপ বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়ে আলোচনায় এসেছে বিএনপি। তবে একটি আসন হারানোর কারণে বিজয়ের আনন্দে আক্ষেপও রয়ে গেছে দলটির।

 

শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া সিলেট-৫ আসনে জয় পায়নি বিএনপি। সেখানে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান।

 

সিলেট বিভাগে প্রায় একচ্ছত্র জয় পেলেও এই একটি আসনের পরাজয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আসন বণ্টন কৌশল, বিদ্রোহী প্রার্থীর ভূমিকা এবং নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলেছে—তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী নির্বাচনে কৌশলগত ভুলের কারণেই আসনটি হাতছাড়া হয়েছে বিএনপির। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, জোটের শরিককে মনোনয়ন দেওয়ার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে জরিপ করা হলে ফল ভিন্ন হতে পারতো।

 

সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসনে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে বিএনপির কোনো নেতা মনোনয়ন পাননি। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন একাধিক নেতা। তবে শেষ মুহূর্তে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে জোট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

 

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ, যিনি এলাকায় ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করায় তিনি স্থানীয়ভাবে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়।

 

নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির একটি অংশের নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ও গোপনে তার পক্ষেই সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ভোটারদের ধারণা ছিল, মূল লড়াই হবে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবুল হাসান ও বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদের মধ্যে।

 

নির্বাচনের শেষ সময়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ দুই উপজেলার ১৩ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কিছু কর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।

 

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জোট প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। আর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ২৫১ ভোট।

 

উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, জকিগঞ্জে আবুল হাসান পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৯৭ ভোট, উবায়দুল্লাহ ফারুক ২০ হাজার ৮৬২ এবং মামুনুর রশিদ ২৫ হাজার ৩০৯ ভোট। অন্যদিকে কানাইঘাটে আবুল হাসান পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৪ ভোট, উবায়দুল্লাহ ফারুক ৪৮ হাজার ৭ এবং মামুনুর রশিদ ৩১ হাজার ১৬৮ ভোট।

 

ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটের বড় অংশ জোট প্রার্থীর পক্ষে গেলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।

 

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আসনটি আমরা পাইনি। তা না হলে এ আসনও আমাদের হতো। এজন্য দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

 

নির্বাচনের আগে ১৩ নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, জোটের প্রার্থীর সুপারিশেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট নেতারা দলে থাকলে নির্বাচনে সমস্যা হতে পারে। জোটের স্বার্থ রক্ষায়ই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট-৫ আসন, ভূমিধস বিজয়, আক্ষেপ, জোট, জমিয়ত

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ