জিএসসি ওমেন এমপাওয়ার প্রজেক্টের সেলাই প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের সনদ বিতরণ
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ৯ মে, ২০২৫ ২:৩২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সিলেট প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের এক অপার সম্ভার। এখানে রয়েছে টিলা, পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান এবং নানা ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান যা শুধু স্থানীয় নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও ভীষণ আকর্ষণীয়।
ট্যুরিজম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃতিকন্যা সিলেটে ৪৩টি পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ৪৩টির মধ্যে পর্যটকরা চিনেন কয়টি।
ভ্রমণপিপাসুরা সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র বলতে চিনেন জাফলং, সাদাপাথর, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, লালাখাল, পান্তুমাই ও লোভছড়াসহ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য জায়গাকে। এর বাইরে রয়েছে সিলেট নগরীর ভেতরে শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজার, কিন ব্রিজ আর কয়েকটি চা বাগান।
এর বাইরেও যে দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহাসিক স্থান সিলেটের গর্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তা অনেকেরই অজানা। ট্যুরিজম উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায়ও এসব পর্যটনকেন্দ্রের নাম থাকলেও খোদ প্রশাসনের কাছেও নেই এসবের গুরুত্ব। কোনো ধরণের প্রচার-প্রচারনা না থাকায় সম্ভাবনাময় এসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে লোকচক্ষুর অন্তরালে। শুধুমাত্র সুপরিকল্পনা ও উন্নয়নের অভাবে সিলেটের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত এখনও তিমিরে।
ট্যুরিজম উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় সিলেটে ৪৩ পর্যটনকেন্দ্র
দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে গঠিত বাংলাদেশ ট্যুরিজম উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় সিলেট জেলায় ৪৩ পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরা চা-বাগান, মালনীছড়া চা-বাগান, টিলাগড় ইকোপার্ক, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার, শাহী ঈদগাহ, আলী আমজাদের ঘড়ি, কীন ব্রিজ, ওসমানী মিউজিয়াম, রাজার মাঠ, এমসি কলেজ, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং হযরত শাহ পরাণ (রহ.) মাজার।
গোয়াইনঘাট উপজেলায় রয়েছে, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, জাফলং, তামাবিল ও বিছনাকান্দি। জৈন্তাপুর উপজেলায় রয়েছে, লালাখাল, জৈন্তা রাজবাড়ি, শাপলাবিল এবং জৈন্তাপুর জাদুঘর বিয়ানীবাজার উপজেলায় রয়েছে, বাহাদুরপুর মসজিদ, পল রাজবাড়ি, সুতারকান্দি বর্ডার হাট এবং বাসুদেব মন্দির।
গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও ওসমানীনগর উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে, চৌকিদেখী হাওর, হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর সমাধি, ফেঞ্চুগঞ্জ ব্রিজ, চাতলাপুর বর্ডার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ (বালাগঞ্জ), ওসমানীনগর পুরাতন রেলস্টেশন, বালাগঞ্জের ইছামতি নদী, কানাইঘাট বর্ডার পয়েন্ট এবং জিরোপয়েন্ট পাহাড়ি এলাকা।
এই ৩৫টির পাশাপাশি রয়েছে মেঘালয়ের দৃশ্যপট দেখা যায় এমন সীমান্ত অঞ্চল, পাথর কোয়ারি এলাকা (বিশেষ করে বিছনাকান্দির বাইরেও), হাকালুকি হাওরের প্রান্তবর্তী অঞ্চল, টিলাগড় পাহাড়ি পথ, লাক্কাতুরা বোটানিক্যাল গার্ডেন, আলী আমজাদের পুকুরঘাট, সিলেট সার্কিট হাউজ সংলগ্ন পার্ক এবং ধোপাদিঘির পাড়।
সিলেটের একটি বেসরকারি কোম্পানীর গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং পর্যটক সৈয়দ রনি বলেন, আমি সুযোগ পেলেই সিলেটে বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখি। সিলেটে অনেক পর্যটন স্পট আছে মানুষ চিনেন না অথবা যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা আসছেন না। যদি সঠিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন এবং প্রচার নিশ্চিত করা যায় তাহলে সিলেটে পর্যটন খাতের উন্নয়ন হবে।
তিনি বলেন, বাস্তব সত্য অধিকাংশ স্থানই এখনও উন্নয়ন সুবিধার বাইরে। যোগাযোগব্যবস্থা, সাইনবোর্ড, টয়লেট, নিরাপত্তা ও আবাসন সমস্যা এই জায়গাগুলোর সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার সিলেট ভয়েসকে বলেন, কোম্পানীগঞ্জে সরকারিভাবে স্বীকৃত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র। এই পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নে ৮১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হয়। তবে ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর কিছু দুষ্কৃতিকারী দেয়ালসহ মালামাল তুলে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভা হয়েছে। ট্যুরিজম বোর্ড থেকে আমাদের বলা হয়েছে কাজটি আবার শুরু করা জন্য। এই কাজ সম্পন্ন হলে পর্যটকদের আগ্রহ এবং সুবিধা দুটোই বাড়বে।
সড়ক সংস্কার হলে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়বে বলে জানিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, যাতায়াতের কারণে গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটক আসা কমে গিয়েছিল। তবে সড়ক সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তাগুলো ঠিক হয়ে গেলে পর্যটকদের আগমন আরো বাড়বে বাড়বে। গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে কোন চলমান প্রকল্প না থাকলেও একটি নীতিগত পরিকল্পনা হাতে রয়েছে বলে জানান ইউএনও।
সিলেটের পর্যটন, সম্ভাবনা, সমস্যা, অনুন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সাদাপাথর, জাফলং, রাতারগুল, লালাখাল, লাক্কাতুড়া