শাহজালাল মাজার: কর্তন করা খেজুর গাছ জব্দ ও নির্মাণ কাজ স্থগিত
অনুসন্ধান
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন টোল প্লাজা ইজারা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগে দরপত্র জমা দিয়েছে সনদ বাগিয়ে নেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল।
প্রকাশঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ১০:০৭ অপরাহ্ন
কাজ না করেও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১২ কোটি টাকার প্রকল্প সম্পন্ন করার সনদ দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন। শুধু তাই নয়, সড়ক জনপথ বিভাগে এই সনদটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হলে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী সেটিকে বৈধ বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পত্র ইস্যু করেছেন।
এমন সনদ জালিয়াতির বিষয়টি আলোচনায় আসায় বিতর্কের মুখে পড়েছে সিসিক ও সনদ বাগিয়ে নেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল এর নামে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি অভিজ্ঞতার সনদ ইস্যু করা হয়।
সনদে উল্লেখ করা হয়, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) এর নিজস্ব ফান্ড থেকে ১২ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করেছেন। সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও নির্মাণাধীন সিলেট ট্রাক টার্মিনালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়, যানবাহন প্রবেশ ও বহির্গমন মনিটরিং, ভারি যানবাহনের ওজন পরিমাপ, ‘রিয়েল টাইম আপডেট‘ ট্রাফিক সিস্টেম স্থাপন এবং আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি সিলেট বিভাগের পাঁচটি টোল প্লাজা ইজারা নেওয়ার জন্য দরপত্র জমা দেয় মেসার্স মো. জামিল ইকবাল নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দরপত্রের সঙ্গে ‘রিয়েল টাইম কাস্টমাইজড সফটওয়্যার বেইসড কম্পিউটারাইজড টোল কালেকশনের‘ অভিজ্ঞতা হিসেবে তারা সিসিকের ওই ১২ কোটি টাকার কাজের অভিজ্ঞতা সনদ জমা দেয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে দরপত্রে অংশ নেওয়া অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
পরে সড়ক ও জনপথের পক্ষ থেকে গত ২৫ মার্চ ওই সনদের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীকে একটি পত্র পাঠানো হয়। পত্রের জবাবে গত ২০ এপ্রিল সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের সই করা পত্রে ১২ কোটি টাকার কাজ সম্পাদনের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী ওই পত্রে উল্লেখ করেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বাস ও ট্রাক টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যসম্পাদন সনদ সিসিক থেকেই দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পত্রে উল্লেখ করা হয়, মেসার্স মো. জামিল ইকবাল নিজস্ব সিএসআর ফান্ড থেকে অটোমেটেড ওয়েব-বেইসড টোল কালেকশন খাতে ৯ কোটি টাকা, ট্রাফিক অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেশনস খাতে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, এনহ্যান্সড সার্ভেইলেন্স মনিটরিং খাতে ৮০ লাখ টাকা ও ফিচারস ফর দ্য টোল কালেকশন সিস্টেম খাতে ১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের বাস ও ট্রাক টার্মিনালে এরকম কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়নের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
সিলেট জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, বাস টার্মিনালটি পরিবহন সমিতির একজন নেতা ইজারা নিয়েছেন। তিনি ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে লোকবল দিয়ে টাকা আদায় করছেন। তাছাড়া যানবাহন প্রবেশ ও বহির্গমনে কোনো কম্পিউটারাইজড সিস্টেম চালু করা হয়নি। এমনকি এ ধরনের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো সার্ভে করার খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, সিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজেশ করেই অভিজ্ঞতার সনদ হাতিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগের শেরপুর, ছাতক, রাণীগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শাহপরাণ টোল প্লাজা ইজারা দেওয়ার জন্য মার্চ মাসে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ। এর মধ্যে শেরপুরে ১২টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১০টি ও শাহপরাণে ১৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। বিভাগের বাকি টোল প্লাজাগুলোতেও দরপত্রে অংশ নিয়েছে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এসব টোল প্লাজা ইজারা নিতে অংশগ্রহণ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো. জামিল ইকবাল।
এ বিষয়ে জানতে ‘মেসার্স মো. জামিল ইকবাল‘র স্বত্বাধিকারী মো. জামিল ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সময়কালে ‘মেসার্স মো. জামিল ইকবাল‘র সঙ্গে সিসিকের একটি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বাস ও ট্রাক টার্মিনালের টোল আদায়ে অটোমেশন পদ্ধতি, ওয়েব্রিজের ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেছে। তারা একটি রিপোর্ট সিসিককে জমা দিয়েছে। মূলত তারা একটি সার্ভের কাজ করেছে। কোনো স্ট্যাবলিশমেন্টের কাজ হয়নি।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করোপেরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুক্তরাজ্যে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমির হোসেন বলেন, দরপত্রে রিয়েল টাইম কাস্টমাইজড বেইসড অটোমেশনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে যাদের টোল আদায়ের অভিজ্ঞতা ভালো আছে, তাদেরকে সনদ জমা দিতে বলা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র নিয়ে সন্দেহ হলে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠাবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।
সিলেট সিটি করপোরেশন, সিসিক, জাল সনদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, মেসার্স মো. জামিল ইকবাল, সওজ, টোল প্লাজা, দরপত্র